গাজীপুরে স্টার নিউজের সাংবাদিক বাবু হামলায় আহত, গ্রেপ্তার ১
আহত সাংবাদিক হোসেন আলী বাবু, (ডানে) হামলাকারী
আব্দুল মালেক মিয়া, ব্যুরো চীফ, গাজীপুর
গাজীপুরে সাংবাদিক হোসাইন আলী বাবুকে হামলা করে আহত করেছে এক ভবঘুরে যুবক। এতে তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। পুলিশ তাৎক্ষনিক হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর গাজীপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকেরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচার দাবি করেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ভিতরে হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক হোসাইন আলী বাবু বেসরকারী টেলিভিশন স্টার নিউজ’এর গাজীপুর প্রতিনিধি। তিনি পরিবার নিয়ে গাজীপুর বসবাস করেন এবং শ্রীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মৃত কবির হোসেনের ছেলে।
হামলাকারী জুয়েল (২৮) নরসিংদীর বেলাব উপজেলা এলাকার বাসিন্দা। সে ভবঘুরের মতো চান্দানা চৌরাস্তা এলাকায় ঘুরাফেরা করতেছিল।
আহত সাংবাদিক হোসাইন আলী বাবু বলেন, তিনি সকালে চান্দনা চৌরাস্তায় অফিস অ্যাসইনমেন্ট লাইভ শেষ করে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ভিতরে গিয়ে বসেন। এসময় হামলাকারী জুয়েলও তার পেছনে পেছনে পুলিশ বক্সের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। বাবু বক্সে বসে কাজ করার সময় জুয়েল তাকে (সাংবাদিক) জিজ্ঞাসা করে নাম কি। তিনি বলেন আমি তোমাকে নাম বলব কেন? হামলাকারী জুয়েল বলে নাম বলতে হবে, তোর নাম বল এবং আগে আমার সাথে কথা বল। কেন, তোমার পরিচয় কি? অফিসের কাজ নিয়ে আমি ব্যস্ত আছি। আমি তোমাকে নাম বলব না। তুই আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলি কেন? আমি কি রিপোর্ট করেছি তোমার বিরুদ্ধে? আমি তোমার বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট করি নাই বললে সে উল্টাপাল্টা কথা বলতেছে। পরে তাকে আমি বলি এখান থেকে যাও ভাই, আমাকে কাজ করতে দাও। এসময় আমি অফিসের সাথে ফোনে লাইনে ছিলাম। এরপর টেবিলে বসে আমি ল্যাপটপে ফুটেজ কাটাতে মনোযোগী ছিলাম। এক পর্যায়ে জুয়েল পুলিশ বক্সের ভিতরে প্রবেশ করে কিছু বুঝার উঠার আগেই আমাকে এলোপাতাড়ী পেটানো শুরু করেছে। ভিতরে পেটানোর শব্দ শুনে বাহিরে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ তাজ উদ্দিন আমাকে রক্ষা করে। তাৎক্ষনিক পুলিশ ভাই না ফেরালে আমি এখানে স্পট ডেড হয়ে যেতাম। এই ছেলেকে আমি জীবনে দেখিও নাই, চিনিও না। তার সাথে কোনোদিন কথাও বলি নাই।
উদ্ধারকারী ট্রাফিক পুলিশ তাজ উদ্দিন বলেন, আমি চান্দনা চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনেই দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ বক্সের ভিতর অনেক শব্দ শুনতে পাই। দৌড়ে গিয়ে দেখি সাংবাদিক বাবু ভাইকে এলোপাতাড়ী মারধর করছে এক যুবক। চেয়ার উঠিয়ে তাকে মাথায় আঘাত করতে চেয়েছিল। আমি মাঝখানে এসে ফিরানোর সময় আমার শরীরেও আঘাত লেগেছে। মাথায় আঘাত পেয়েছে, শরীর রক্তাক্ত হয়েছে। আমি নিজে তাকে সেভ করেছি। আমি সেভ না করলে সাংবাদিক ভাই এতক্ষণে মৃত্যু শয্যায় থাকতো। আমি ট্রাফিক বিভাগে কাজ করি। পরে থানায় জানালে পুলিশ এসে হামলাকারী জুয়েলকে নিয়ে যায়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হারুন-অর রশীদ বলেন, অভিযুক্ত জুয়েলের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম সে ভবঘুরের মতো এখানে ঘুরতেছিল। কয়েকদিন যাবত কিছু খাওয়া-দাওয়া করে না। শারিরীকভাবে খুবই দুর্বল। তার মা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। আমরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসছি। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগে দেয়নি। তাকে হামলা করেছ কেন জিজ্ঞাসা করলে বলে আমার নামে ভুয়া নিউজ করছে কেন? তারা কেউ কাউকে চিনে না এবং তার বিরুদ্ধে নিউজ করার কোনো ঘটনা ঘটে নাই। জিজ্ঞাসা করলে এলামেলো কথা বলে।
কমেন্ট বক্স