৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​সীমান্তে অচলাবস্থা, ৩৬ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ১০ জন

আপলোড সময় : ০৭-০৬-২০২৬
​সীমান্তে অচলাবস্থা, ৩৬ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ১০ জন সীমান্তে অনড় বিজিবি-বিএসএফ, ৩৬ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় বৃষ্টিতে ভিজছে নারী-শিশুসহ ১০ জন

মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড়: পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশ-ইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ব্যক্তি টানা ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার ওপারে অবস্থান করছেন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। শনিবার বিকেল পর্যন্ত এ সংকটের কোনো সমাধান হয়নি।

স্থানীয় সূত্র ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, আটকে পড়া ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকে তারা সীমান্তসংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে একটি কর্দমাক্ত ও পানি জমে থাকা কৃষিজমিতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে সীমান্ত এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। কোনো ধরনের আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় নারী ও শিশুরাসহ সবাই বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটাতে বাধ্য হন। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। ফলে তারা শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করতে থাকে।

ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি নিরসনে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে প্রায় ২০ মিনিটের একটি স্পট মিটিং অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

বিএসএফের দাবি, আটকে পড়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে বিজিবি বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক পাঠানো গ্রহণযোগ্য নয়।

নীলফামারী ব্যাটালিয়ন (৫৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আটকে পড়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি বিএসএফ কমান্ডারকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যেহেতু তারা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল, তাই আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “নারী ও শিশুরা রাতভর বৃষ্টিতে ভিজেছে এবং মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছি, তবে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।”

বিজিবি অধিনায়ক জানান, যদি আটকে পড়া ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইসিপির মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে কোনো ধরনের অবৈধ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ