• রাজনীতি
  • পাঁচ দফা দাবিতে আজ জামায়াতসহ ৮ দলের গণসমাবেশ: লক্ষ্য লাখো মানুষের জমায়েত

পাঁচ দফা দাবিতে আজ জামায়াতসহ ৮ দলের গণসমাবেশ: লক্ষ্য লাখো মানুষের জমায়েত

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
পাঁচ দফা দাবিতে আজ জামায়াতসহ ৮ দলের গণসমাবেশ: লক্ষ্য লাখো মানুষের জমায়েত

পুরানা পল্টনে দুপুর ২টা থেকে Power Show; বিএনপিকে পাশে চান জামায়াত নেতা, 'আলোচনা ও আন্দোলন একসঙ্গে চলবে'

**** ৮ দলের Power Show ও পাঁচ দফা দাবি****

জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তৎপরতা বৃদ্ধি করে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে গণসমাবেশ (Mass Rally) করছে। পাঁচ দফা দাবি আদায়ে আয়োজিত এই সমাবেশকে দলগুলো তাদের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখছে। সমাবেশ উপলক্ষে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আট দলের নেতারা আশা করছেন, আজকের সমাবেশে 'লাখো মানুষের' উপস্থিতি ঘটবে।

নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা: লোকে লোকারণ্য পল্টন

সোমবার (১০ নভেম্বর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পল্টন কার্যালয়ে আট দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বৈঠক শেষে এই গণসমাবেশের প্রত্যাশার কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, "সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হবে। লোকে লোকারণ্য হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

তিনি আরও বলেন, এই সমাবেশ শুধু রাজধানী ও আশপাশের মানুষকে নিয়ে করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, "যদি সরকার এ জমায়েত দেখে বুঝতে পারে, তাহলে এখান থেকেই একটা বড় মতামত উঠে আসতে পারে।" এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সমাবেশটি সরকারের কাছে একটি Political Message পৌঁছে দেওয়ার কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্দোলনের পর্ব ও দাবি: জনদুর্ভোগ এড়িয়ে চলার চেষ্টা

হামিদুর রহমান আযাদ তাদের আন্দোলন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে জানান, তাদের আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব শেষ হয়েছে এবং এখন পঞ্চম পর্ব চলছে। গত ৬ নভেম্বর স্মারকলিপি প্রদানের পর আজ গণসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো 'জোট' নয়, বরং জনগণের কিছু মৌলিক দাবি আদায়ে গঠিত একটি 'আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম'।

জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে কর্মসূচির সময়সীমাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সমাবেশটি দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ের মধ্যে তারা তাদের পাঁচ দফা দাবি জনসমক্ষে তুলে ধরবেন এবং পরবর্তী কর্মপন্থা ঘোষণা করবেন।

বিএনপির প্রতি আহ্বান: আলোচনার কৌশল

বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হামিদুর রহমান আযাদ একটি কৌশলগত বার্তা দেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রকাশ্যে বলেছে যে তারা জামায়াতের ডাকে সাড়া দেবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, "আমরাও প্রকাশ্যে বলছি, তারা আমাদের ডাকলে আমরা অবশ্যই সাড়া দেব।" এই বক্তব্য দুই দলের মধ্যেকার বিদ্যমান দূরত্ব কমানোর একটি প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, তারা আলোচনা ও আন্দোলন উভয় কৌশলকেই একসঙ্গে চালিয়ে যাবেন।

গণভোট ও ঐকমত্য কমিশন: জটিলতার ইঙ্গিত

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার সফলতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আলোচনা সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে যায়নি। বরং আলোচনার মাধ্যমেই একটি সনদ তৈরি হয়েছে এবং তাতে স্বাক্ষরও হয়েছে। তবে তার মতে, "মূল সমস্যা সনদ নিয়ে নয়, বরং তার Implementation Process (বাস্তবায়ন পদ্ধতি) নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।"

একইসঙ্গে তিনি সংবিধান এবং গণভোটের বিষয়টি টেনে আনেন। তিনি বলেন, "গণভোট আগে সংবিধানে ছিল, ফ্যাসিস্টরা তা বাদ দিয়েছে।" তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সংবিধান অনুযায়ী যদি পাঁচ বছর পর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকে, তাহলে কি ২০২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা? এবং তার দাবি, বর্তমান সরকারও তো সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতায় আসেনি। এই মন্তব্যগুলো চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।