• দেশজুড়ে
  • মুন্সীগঞ্জে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা আবিষ্কার

মুন্সীগঞ্জে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা আবিষ্কার

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
মুন্সীগঞ্জে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা আবিষ্কার

পূর্ব শীলমন্দি এলাকার একটি গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার; নির্বাচন ও নাশকতার জন্য অস্ত্র সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

**** অবৈধ অস্ত্রের Underground Factory-র সন্ধান****

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশের একটি সমন্বিত অভিযানে একটি অবৈধ দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) গভীর রাতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব শীলমন্দি এলাকার সুমন লাল নামের এক ব্যক্তির গোডাউন ঘরে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

যৌথ অভিযান: ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের তৎপরতা

সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড-এর অধীনে মুন্সীগঞ্জ সদর আর্মি ক্যাম্প এবং পুলিশের একটি টহল দলের সমন্বয়ে এই Joint Operation পরিচালনা করা হয়। যৌথ বাহিনীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে পূর্ব শীলমন্দি এলাকার সুমন লালের গোডাউন ঘরে কিছু অপরিচিত ব্যক্তির সন্দেহজনক আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। এর সূত্র ধরেই তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী।

তল্লাশি চলাকালে গোডাউন ঘরটি থেকে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে: ৩টি সিসা কার্তুজ, ৫টি লোহার বাট, ৭টি লোহার ব্যারেল, ৭টি রিকয়েল স্প্রিং, ১টি ওয়েল্ডিং মেশিন, ১টি ড্রিল মেশিন, ৬টি লোহার বোল্ট, এবং লোহার তৈরি লেদ মেশিন (Lathe Machine) সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।

উদ্দেশ্য: নির্বাচন ও নাশকতার জন্য অস্ত্র সরবরাহ

উদ্ধারকৃত কারখানার উদ্দেশ্য সম্পর্কে যৌথ বাহিনীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এই কারখানা থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন (General Election) এবং ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল।

আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে সংঘটিত সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্রের সরবরাহও এই স্থান থেকেই করা হয়েছিল। এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা এবং Election Violence দমনে এই কারখানাটির ভূমিকা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

আইনি প্রক্রিয়া: সদর থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর

অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের এই কারখানার সরঞ্জামাদি উদ্ধারের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এখন কারখানার মালিক সুমন লালসহ এই অবৈধ অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। এই অভিযান দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে Arms Control-এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।