কার্যক্রম ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত আওয়ামী লীগের (Awami League) ১৩ নভেম্বরের ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার (Planning for Sabotage) অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ (Siddhirganj) ও আড়াইহাজার (Araihazar) উপজেলা থেকে দলটির ১২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পুলিশ ককটেল, পেট্রোল (Petrol) এবং বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য (Explosive Materials) উদ্ধার করেছে।
গতকাল ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজন এবং রাতে আড়াইহাজার উপজেলার কৃষ্ণপুরা এলাকা থেকে আটজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে (Sabotage Charge) মামলা করা হয়েছে।
আড়াইহাজারে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীসহ ৮ জন আটক
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার কৃষ্ণপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ককটেল, পেট্রোল ও বিস্ফোরকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই আটকের মধ্যে অন্যতম হলেন বীণা আক্তার (৫৬), যিনি কাঁঠালিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (Mahila Awami League President)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার তিনটি হত্যা মামলা (Murder Cases) রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া বাকিরা হলেন—আমিনুল ইসলাম, আপন, অনিক, নিলয়, নাজমুল, ইয়ামিন ইসলাম ও সালমান।
সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী আটক
অন্যদিকে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আওয়ামী লীগের কর্মী মো. ভোলা (৫৪), যুবলীগের কর্মী মাইন উদ্দিন (২৪) ও মো. রবিন (৩৫) এবং সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জিয়াউল হককে (৪৫) আটক করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে (Jail) পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা আওয়ামী লীগের ডাকা বৃহস্পতিবারের ঢাকা ‘লকডাউন’ কর্মসূচির নামে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের (Anti-State Activities) পরিকল্পনা করছিলেন।
পুলিশের অভিযোগ, আটক নেতা-কর্মীরা পেট্রোল, ককটেল নিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক (Public Panic) সৃষ্টি করেন। নাশকতার সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।