• খেলা
  • শেষ ম্যাচে দাপুটে জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিউজিল্যান্ডের

শেষ ম্যাচে দাপুটে জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিউজিল্যান্ডের

খেলা ১ মিনিট পড়া
শেষ ম্যাচে দাপুটে জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিউজিল্যান্ডের

২৬ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটের সহজ জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করল কিউইরা। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ব্যাটারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিরিজ নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা।

ডানেডিন: পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল কার্যত ফাইনাল। যে জিতবে, সিরিজ তার। এমন সমীকরণের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কোনো সুযোগই দিল না নিউজিল্যান্ড। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে অনায়াস জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা। বৃহস্পতিবার ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় জয়ে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে কিউইরা।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইন-আপ। অন্যদিকে, মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনারদের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে সহজেই জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।

ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং বিপর্যয়

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিউই বোলারদের নিখুঁত লাইন ও লেন্থের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। মাত্র ৫০ রান তুলতেই প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটারকে হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় দলটি। দলের এই কঠিন মুহূর্তে রোস্টন চেজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ৩২ বল মোকাবেলা করে তিনি ৩৮ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন।

ইনিংসের শেষের দিকে অল-রাউন্ডার রোমারিও শেফার্ডের ২২ বলে ৩৬ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস এবং জেসন হোল্ডারের ২০ রানের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটি সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছায়। তবে তাদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট ছিল না, এবং দলটি ১৮.৪ ওভারে ১৪০ রানেই অল আউট হয়ে যায়।

ডাফি-নিশামের বোলিং তোপ

নিউজিল্যান্ডের জয়ের ভিত্তি মূলত গড়ে দিয়েছিলেন তাদের বোলাররা। পেসার জ্যাকব ডাফি ছিলেন দিনের সবচেয়ে সফল বোলার। তিনি তার নির্ধারিত ৪ ওভারে ৩৫ রান খরচ করে একাই তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অল-রাউন্ডার জিমি নিশাম, যিনি লাভ করেন ২টি উইকেট। এছাড়া, কাইল জেমিসন, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মিচেল স্যান্টনার এবং ইশ সোধি একটি করে উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন। তাদের সম্মিলিত বোলিং আক্রমণে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা কখনোই স্বস্তিতে খেলতে পারেনি।

সহজ লক্ষ্যে কিউইদের সাবলীল ব্যাটিং

১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনার টিম রবিনসন এবং ডেভন কনওয়ে মাত্র ৭.১ ওভারেই ৬৯ রানের একটি দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটি গড়েন। রবিনসন ৩০ বলে ৪৫ রানের একটি বিস্ফোরক ইনিংস খেলে আউট হলেও জয়ের পথ মসৃণ করে দিয়ে যান।

তিনে নামা রাচিন রবীন্দ্রও দ্রুতগতিতে ১৬ বলে ২১ রান যোগ করে আউট হন। এরপর অভিজ্ঞ মার্ক চ্যাপম্যান মাঠে নেমে ডেভন কনওয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। কনওয়ে ৪৭ রানে এবং চ্যাপম্যান ২১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে শмар স্প্রিংগার এবং রোমারিও শেফার্ড একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এই সিরিজ জয়ের পর নিউজিল্যান্ড এখন ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নেবে। আগামী রোববার (১৬ নভেম্বর) ক্রাইস্টচার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে তারা।