ভূমিকা: কিংবদন্তিদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সিরিজ সেরা হয়েছেন রোহিত শর্মা। শেষ ম্যাচে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরাট কোহলিও। কিন্তু মাঠের এই পারফরম্যান্সও ভারতীয় ক্রিকেটের এই দুই মহাতারকার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারছে না। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর এখন তারা শুধু ওয়ানডে ফরম্যাটেই সক্রিয়। ফলে তাদের ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। আর এই জল্পনার মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) রোহিত ও কোহলির সামনে জাতীয় দলে টিকে থাকার জন্য এক কঠোর শর্ত বেঁধে দিয়েছে।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?
যেহেতু রোহিত এবং কোহলি এখন শুধুমাত্র একটি ফরম্যাটেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন, তাই তাদের নিয়মিত ম্যাচ অনুশীলনের অভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লম্বা বিরতির পর আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরলে সেরা ফর্ম ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তাদের ম্যাচ ফিটনেস এবং ফর্ম অক্ষুণ্ণ রাখতে ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করছে বোর্ড ও টিম ম্যানেজমেন্ট। মূলত ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশ
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিসিআই এই দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারতের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে হলে তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। বোর্ডের এক সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, "বোর্ড ও টিম ম্যানেজমেন্ট দুজনকেই জানিয়ে দিয়েছে— যদি তারা ভারতের হয়ে খেলতে চায়, তাহলে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতেই হবে। যেহেতু তারা দুটি ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছে, তাই ম্যাচ ফিট থাকতে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা বাধ্যতামূলক।"
এটিই প্রথমবার নয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ভারতের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এই দুই ক্রিকেটারকে রঞ্জি ট্রফিতে একটি করে ম্যাচ খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
দুই তারকার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া
বোর্ডের এই নির্দেশনায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন রোহিত শর্মা। তিনি ইতোমধ্যেই মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে (MCA) জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আসন্ন বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলার জন্য প্রস্তুত। এমনকি প্রয়োজনে নভেম্বরে শুরু হতে যাওয়া সৈয়দ মুশতাক আলি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও খেলতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি, যা তার দায়বদ্ধতারই পরিচয় দেয়।
অন্যদিকে, বিরাট কোহলি এখনও ঘরোয়া এই একদিনের টুর্নামেন্টে নিজের অংশগ্রহণের ব্যাপারে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণার আগে তার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে থাকবে ক্রিকেট মহল।
নির্বাচকদের অটল অবস্থান
নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগারকারের বক্তব্য বোর্ডের এই অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে। তিনি সম্প্রতি আবারও মনে করিয়ে দেন যে, জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হলো ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ। আগারকার বলেন, "আমরা এক বা দুই বছর আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম— যখনই খেলোয়াড়রা থাকবে, তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততার কারণে সবসময় তা সম্ভব না-ও হতে পারে, কিন্তু সুযোগ পেলেই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা আবশ্যক।"
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর রোহিত ও কোহলি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দলে ফিরেছিলেন। সেখানে রোহিত একটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরিসহ সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন। কোহলি প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ হলেও, সিরিজের শেষ ম্যাচে ৭৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিজয় হাজারে ট্রফিতে তাদের পারফরম্যান্সই হয়তো তাদের ওয়ানডে ভবিষ্যতের রূপরেখা এঁকে দেবে।