ডিস্টোপিয়ান থ্রিলার: রানার বনাম শিকারক্ষেত্র
বিখ্যাত লেখক স্টিফেন কিংয়ের ১৯৮২ সালের একই নামের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ডিস্টোপিয়ান অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘দ্য রানিং ম্যান’ আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনে ঢাকায় মুক্তি পাচ্ছে। এডগার রাইট পরিচালিত এবং গ্লেন পাওয়েল অভিনীত এই ছবিটি প্যারামাউন্ট পিকচার্সের ব্যানারে ১৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে চলেছে। একই দিনে এটি বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে।
ভয়ংকর গেম শো: অর্থনৈতিক সংকট ও জননিয়ন্ত্রণের অস্ত্র
নিকট ভবিষ্যতের এক ডিস্টোপিয়ান সমাজে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট (Economic Crisis) এবং বেকারত্ব চরম আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণকে ব্যস্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার এক ভয়ংকর টেলিভিশন গেম শো (Game Show) ‘দ্য রানিং ম্যান’-এর আয়োজন করে।
খেলা: সমাজের অবাঞ্ছিত, দরিদ্র শ্রেণির মানুষ, যাদের রানার (Runner) বলা হয়, তারা এই শোতে অংশ নেয়। তাদের সামনে একটাই শর্ত: ৩০ দিন বেঁচে থাকতে পারলে তারা বিপুল অর্থ ও স্বাধীনতা জিতে নিতে পারবে।
শিকার: এই রানারদের পিছু নেয় সশস্ত্র হত্যাকারীদের একটি দল (Slasher Group), যারা রাষ্ট্রের হয়ে এই খেলা পরিচালনা করে। রিচার্ডসকে ১২ ঘণ্টার আগাম সময় দেওয়া হয়, এরপর পুরো শহর হয়ে ওঠে তার জন্য শিকারক্ষেত্র (Hunting Ground)।
পরিবারের জন্য এক বাবার মরিয়া লড়াই
ছবিতে অভিনেতা গ্লেন পাওয়েল ‘বেন রিচার্ডস’ নামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। রিচার্ডস একজন সাধারণ কারখানার কর্মী এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া বাবা। তাঁর ছোট মেয়ে মারাত্মক অসুস্থ এবং চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছে না। অন্যায় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তিনি চাকরি থেকেও বরখাস্ত হন।
পরিবারের জন্য মরিয়া হয়ে রিচার্ডস এই বিপজ্জনক গেম শোতে অংশ নেন। পালাতে পালাতে তিনি একটি আন্ডারগ্রাউন্ড প্রতিরোধ সংগঠনের (Underground Resistance) সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বুঝতে পারেন, এই শো শুধু বিনোদন নয়, এটি সরকারের জনগণ নিয়ন্ত্রণ করার একটি অস্ত্র। শেষ পর্যন্ত রিচার্ডস শুধু নিজের জীবনের জন্য নয়, পুরো দেশের মুক্তির জন্য লড়াই করে।