• দেশজুড়ে
  • আকাশে চক্কর দিয়ে বধূ নিয়ে ফিরল বর, বাবার স্বপ্ন ছুঁয়ে গেল চাঁদপুরের মাটি

আকাশে চক্কর দিয়ে বধূ নিয়ে ফিরল বর, বাবার স্বপ্ন ছুঁয়ে গেল চাঁদপুরের মাটি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
আকাশে চক্কর দিয়ে বধূ নিয়ে ফিরল বর, বাবার স্বপ্ন ছুঁয়ে গেল চাঁদপুরের মাটি

সৌদি প্রবাসী ছেলের বিয়েতে হেলিকপ্টার ওড়ানো ছিল বাবার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন সত্যি করে আকাশপথে উড়ে গিয়ে নববধূকে ঘরে আনলেন চাঁদপুরের তরুণ, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আকাশে শুক্রবার বিকেলে দেখা গেল এক অন্যরকম দৃশ্য। প্রকাণ্ড পাখা ঘুরিয়ে একটি হেলিকপ্টার যখন ধীরে ধীরে মাটিতে নামছিল, তখন হাজারো উৎসুক জনতার দৃষ্টি ছিল সেদিকে। কোনো মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন নয়, বাবার স্বপ্নপূরণ করতে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে এসেছিলেন সৌদি প্রবাসী তরুণ মেহেদী হাসান (২৫)। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে সঙ্গে নিয়ে উড়ে যান তিনি, যা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে রইল।

স্বপ্নের বাস্তবায়ন ও উৎসবমুখর পরিবেশ বর মেহেদী হাসান উপজেলার এমএম কান্দি গ্রামের আবদুল বারেক দেওয়ানের ছেলে। তার বাবা আবদুল বারেকের বহুদিনের ইচ্ছা ছিল, একমাত্র ছেলেকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে বরের সাজে পাঠাবেন। ছেলের successful establishment-এর পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ আসে। মেহেদী ছুটিতে দেশে ফিরলে একই উপজেলার রুহিতারপাড় গ্রামের মো. আল আমিনের কন্যা আবিদা সুলতানার সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়।

শুক্রবার বিকেলে রুহিতারপাড় গ্রামের একটি মাঠে বরযাত্রীসহ হেলিকপ্টারটি অবতরণ করলে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আশেপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ এই বিরল দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান। কপ্টার থেকে নামার পর বর ও তার স্বজনেরা হেঁটে কনের বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর নববধূকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারটি বরের গ্রামের উদ্দেশে উড়াল দিলে জনতার উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা এলাকা।

পরিবারের আনন্দ ও এলাকাবাসীর উচ্ছ্বাস ছেলের জীবনের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পেরে উচ্ছ্বসিত বরের বাবা আবদুল বারেক দেওয়ান। তিনি বলেন, "আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ছেলে যখন নিজের পায়ে দাঁড়াবে, তখন তাকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে বিয়ে করাব। আল্লাহ আমার সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। আজ আমি খুবই আনন্দিত।"

বাবা-মায়ের এই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে মেহেদী হাসানও ভীষণ খুশি। তিনি জানান, "বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমার ও আমার পরিবারের সকলের খুব ভালো লাগছে। এটি আমাদের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। আমরা সকলের কাছে দোয়া চাই।" এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকাজুড়ে ছিল ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা। হেলিকপ্টার অবতরণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সামাজিক প্রেক্ষাপট ও স্মৃতির সাক্ষী মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, ঘটনাটি জানার পর হেলিপ্যাড এলাকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছিল, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

প্রবাসে কর্মরত একজন তরুণের এমন বর্ণাঢ্য বিয়ে নিছক একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি স্থানীয় মানুষের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির যুগে গ্রামীণ জীবনে এমন আধুনিকতার ছোঁয়া একদিকে যেমন নতুনত্বের বার্তা দেয়, তেমনই এক বাবার তার সন্তানের প্রতি ভালোবাসার অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও এটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।