বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী, প্রয়াত শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ এবার নতুন মোড় নিল। পারিবারিক এই আইনি লড়াইয়ের আঁচ এসে পড়ল দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court), যেখানে কারিশমার সন্তানদের একটি অভিযোগকে সরাসরি ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিল বিচারপতিদের বেঞ্চ।
চলতি বছরের ১২ জুন পোলো খেলার সময় এক দুর্ঘটনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন সঞ্জয় কাপুর। তার মৃত্যুর পর থেকেই প্রথম স্ত্রী কারিশমার দুই সন্তান, সামাইরা ও কিয়ান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়া কাপুরের মধ্যে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে আইনি জটিলতা শুরু হয়েছে। সেই মামলার শুনানিতেই সম্প্রতি এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।
আদালতে উত্তপ্ত সওয়াল-জবাব সঞ্জয়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় কারিশমার ছেলে কিয়ান ও মেয়ে সামাইরার পক্ষ থেকে আদালতে হাজির ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। তিনি বিচারপতিদের বেঞ্চকে জানান যে, আমেরিকায় অধ্যয়নরত সামাইরা ও কিয়ানের দুই মাসের কলেজের ফি (College Fee) বকেয়া রয়েছে এবং তা পরিশোধ করা হয়নি। এই অভিযোগের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, সন্তানদের দেখভালের ক্ষেত্রে অবহেলা করা হচ্ছে।
তবে এই দাবি সঙ্গে সঙ্গেই উড়িয়ে দেন সঞ্জয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়া কাপুরের আইনজীবী রাজীব নয়ার। তিনি আদালতকে জানান, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উক্ত ফি ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়ে গেছে। দুই পক্ষের আইনজীবীর সওয়াল-জবাবে courtroom-এর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে। সন্তানদের পড়াশোনার ফি সংক্রান্ত অভিযোগটিকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে বেঞ্চ তীব্র ভর্ৎসনার সুরে জানায়, “এই বিষয়টি নিয়ে আমরা ৩০ সেকেন্ডও নষ্ট করতে রাজি নই। এই প্রশ্নটা আদালতে আসারই কথা নয়। এমন নাটুকে কথাবার্তা শোনার জন্য আমরা প্রস্তুত নই।” আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণ কার্যত কারিশমার সন্তানদের অভিযোগকে খারিজ করে দেয় এবং বুঝিয়ে দেয় যে মূল মামলার বাইরে এই ধরনের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে না।
বিবাদের নেপথ্যে যা রয়েছে উল্লেখ্য, পোলো খেলার সময় মুখে মৌমাছি ঢুকে যাওয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে আকস্মিক মৃত্যু হয় ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরের। আইনি জটিলতার কারণে তার মরদেহ দিল্লিতে ফিরিয়ে আনতেও বেশ কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তার হাজার কোটি টাকার বিশাল সম্পত্তি এবং ব্যবসার উত্তরাধিকার কে পাবেন, তা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের পরিবারের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই কলেজের ফি সংক্রান্ত অভিযোগটি আদালতে তোলা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত আদালতের ভর্ৎসনার মুখেই পড়ল।