• দেশজুড়ে
  • উত্তপ্ত বরিশাল: হাফ ভাড়ার দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্রে ছাত্র-শ্রমিক, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ অর্ধশত বাসে, মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী

উত্তপ্ত বরিশাল: হাফ ভাড়ার দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্রে ছাত্র-শ্রমিক, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ অর্ধশত বাসে, মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
উত্তপ্ত বরিশাল: হাফ ভাড়ার দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্রে ছাত্র-শ্রমিক, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ অর্ধশত বাসে, মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাঞ্ছিতের ঘটনায় নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলা; আহত উভয়পক্ষের বহু, বন্ধ বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক।

হাফ ভাড়া নিয়ে শুরু, নথুল্লাবাদজুড়ে তাণ্ডব

হাফ ভাড়া (Half Fare) দেওয়া নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-শ্রমিক সংঘর্ষ দফায় দফায় চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এই সংঘর্ষের ফলে গোটা এলাকা এখন একটি 'হাই-টেনশন জোন' (High-Tension Zone)-এ পরিণত হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নথুল্লাবাদের একাধিক বাসের কাউন্টার এবং অন্তত অর্ধশতাধিক বাসে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে (Highway) যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত: লাঞ্ছিত শিক্ষার্থী

সংঘর্ষের সূত্রপাত বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজকে কেন্দ্র করে। বিএম কলেজ ছাত্র নেতা রাজু জানান, শনিবার বিকেলে কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু বক্কর 'সোহান হাওলাদার' নামক বাসে করে হিজলা উপজেলা থেকে বরিশালে ফিরছিলেন। এ সময় তিনি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে হাফ ভাড়া দিতে চাইলে বাসের সুপারভাইজার এবং হেলপার সম্পূর্ণ ভাড়া দাবি করে।

এই নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্রমিকরা আবু বক্করকে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসটি নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে রাজুসহ একদল শিক্ষার্থী ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সেখানে যান। অভিযোগ, তখন শ্রমিকরা তাদের সঙ্গেও 'অশ্লীল ভাষা' ব্যবহার করলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে ২৫-৩০ জন শ্রমিক একত্রিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। ছাত্রনেতা রাজুর দাবি, এই হামলায় কলেজের ৩০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রমিকদের পাল্টা দাবি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

অন্যদিকে, পরিবহন শ্রমিক নেতা আরজু মৃধার দাবি, কলেজ বন্ধের দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না। কলেজ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এক শিক্ষার্থী হাফ ভাড়া দিতে চাইলে সুপারভাইজার তাতে অসম্মতি জানান। এই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শতাধিক শিক্ষার্থী সংঘবদ্ধ হয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে নথুল্লাবাদে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করে।

শ্রমিকদের 'কাউন্টার ডেটা' (Counter Data) অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা বাস টার্মিনালের মধ্যে পার্কিং করা বিএমএফ, তুহিন, সামান্ত, জিএম এবং নিউ ভাই ভাই পরিবহনসহ একাধিক 'ট্রান্সপোর্ট এন্টারপ্রাইজ'-এর (Transport Enterprise) অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। তাদের হামলায় অন্তত ২০ জনের বেশি শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে বলে শ্রমিকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহত শ্রমিকদেরও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মালিকপক্ষের আশঙ্কা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একসঙ্গে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং বাস টার্মিনাল ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। হামলার মুখে মালিকপক্ষের অনেকে ভেতরে 'অবরুদ্ধ' (Besieged) হয়ে আছেন। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির 'টোটাল লস অ্যাসেসমেন্ট' (Total Loss Assessment) এখনও করা সম্ভব হয়নি, এবং এর বিপরীতে আপাতত কোনো কর্মসূচির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, হাফ ভাড়া নিয়ে বাস শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। কিছুসংখ্যক বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিপুল পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security System) নিশ্চিত করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। রাত সোয়া ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোটা বাসস্ট্যান্ড এলাকা শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সেখানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।