রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার পর বিচারকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ (Bangladesh Judicial Service Association) তাদের ঘোষিত ‘কলম বিরতি’র কর্মসূচি প্রত্যাহার (Withdrawal of Strike) করে নিয়েছে। দেশের সব আদালত, বিচারকের বাসস্থান ও যাতায়াতের সময় অবিলম্বে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী (Adequate Security Forces) নিযুক্ত করার দুটি মূল দাবি পূরণের আশ্বাসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিহত তাওসিফ রহমানের (Toufique Rahman) আত্মার শান্তি কামনায় আগামীকাল (রোববার) সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারকরা কালোব্যাজ ধারণ (Black Badge) করবেন এবং দোয়া মাহফিলের (Doa Mahfil) আয়োজন করা হবে।
শনিবার রাতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান।
আইন উপদেষ্টার আশ্বাসে প্রত্যাহার
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম জানান, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে আইন উপদেষ্টার (Law Advisor) সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং তিনি দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই পূর্বে ঘোষিত কলম বিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সারাদেশের বিচারকরা একযোগে কলম বিরতি পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। সেই বিবৃতিতে দুটি কঠোর দাবি জানানো হয়েছিল:
দেশের প্রতিটি আদালত, বিচারকের বাসস্থান ও যাতায়াতের সময় অবিলম্বে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী নিযুক্ত করতে হবে।
রাজশাহীর ঘটনায় বিচারকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবহেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং গ্রেফতার করা আসামিকে আইন বহির্ভূতভাবে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করে অপেশাদারিত্ব প্রদর্শনের দায়ে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই দুই দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে রোববার থেকে সারাদেশে বিচারকরা কলম বিরতি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
রাজশাহীর নির্মম হত্যাকাণ্ড ও মামলার অগ্রগতি
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর রাজশাহী শহরের তেরখাদিয়া ডাবতলা এলাকায় বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের (Justice Mohammad Abdur Rahman) বাসায় যান গাইবান্ধার ফুলছড়ির বাসিন্দা লিমন মিয়া। সেখানেই তিনি বিচারকের ছেলে তাওসিফ রহমানকে (১৫) ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ সময় লিমনের ছুরিকাঘাতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিও (৪৪) আহত হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অভিযুক্ত লিমনও আহত হন।
এই ঘটনায় ১৪ নভেম্বর বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমান বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় লিমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা (Murder Case) দায়ের করেন। এই মামলায় ইতোমধ্যে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড (Remand) মঞ্জুর করেছেন। বিচারকের ছেলের এমন মর্মান্তিক পরিণতি বিচার বিভাগীয় (Judiciary) কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।