টানা মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা ক্রেতাদের জন্য অবশেষে এলো স্বস্তির খবর। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতি ভরি স্বর্ণে ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আজ, রোববার থেকেই সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। তবে স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পর্যালোচনার পর বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটি এই নতুন দর নির্ধারণ করেছে।
আজ থেকে স্বর্ণের নতুন মূল্য তালিকা
বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে হলমার্ক করা প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম হবে নিম্নরূপ:
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা।
২১ ক্যারেট: ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০১ টাকা।
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৮ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণালংকার কেনার সময় ক্রেতাদের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন এবং মানের ভিন্নতার কারণে মজুরির হারে তারতম্য হতে পারে।
চলতি বছরের অস্থির বাজারচিত্র এই মূল্য হ্রাসের মাত্র কয়েকদিন আগেই, গত ১৩ নভেম্বর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেদিন ভরিতে ৫ হাজার ২৪৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা, যা ১৪ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৭ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৩ বার এবং কমানো হয়েছে মাত্র ২৪ বার। এই পরিসংখ্যানই দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যের চরম অস্থিরতাকে তুলে ধরে। এর আগে ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল।
অপরিবর্তিত রুপার বাজার স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও রুপার দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। বাজুস জানিয়েছে, রুপার পূর্বনির্ধারিত দামই বহাল থাকবে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৪ হাজার ২৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬০১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছর রুপার দাম মোট ৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ বার দাম বেড়েছে এবং কমেছে মাত্র ৩ বার।