• দেশজুড়ে
  • গাড়িতে আগুন বা ককটেল হামলা দেখলেই গুলি: ডিএমপি কমিশনারের কড়া হুঁশিয়ারি

গাড়িতে আগুন বা ককটেল হামলা দেখলেই গুলি: ডিএমপি কমিশনারের কড়া হুঁশিয়ারি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
গাড়িতে আগুন বা ককটেল হামলা দেখলেই গুলি: ডিএমপি কমিশনারের কড়া হুঁশিয়ারি

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নাশকতা মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে পুলিশ প্রশাসন, বেতার বার্তায় সব ইউনিটকে চূড়ান্ত নির্দেশনা।

সারাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম কঠোর অবস্থান ঘোষণা করল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এখন থেকে রাজধানীতে চলমান কোনো যানবাহনে অগ্নিসংযোগ বা ককটেল নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটলে হামলাকারীকে সরাসরি গুলি করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে একটি বিশেষ বেতার বার্তার মাধ্যমে ডিএমপির সকল ইউনিটের কাছে এই চূড়ান্ত নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিএমপি কমিশনার তার নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি বাসে আগুন দেয় বা ককটেল ছোড়ে এবং সেই পরিস্থিতিতে পুলিশকে আক্রমণ করে, তবে পুলিশ সদস্যদের গুলি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আত্মরক্ষা এবং জানমালের নিরাপত্তা বিধানে আইনেই এই ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। আমি আইন মেনেই আমার দায়িত্ব পালন করতে বলেছি।”

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? পুলিশের এই নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায়। সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ রবিবার থেকে দেশব্যাপী দুই দিনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচি ঘিরে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা এর আগে গত ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো বহু ঘটনা ঘটে। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এবার সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ডিএমপির এই নির্দেশনার মাত্র পাঁচ দিন আগেই চট্টগ্রামেও একই ধরনের কঠোর নির্দেশনা জারি করেছিলেন সেখানকার মহানগর পুলিশ কমিশনার। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে ঘিরে বন্দরনগরীতে যেকোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় তিনিও একই ভাবে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। পর পর দুটি বড় শহরের পুলিশ প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, নাশকতা মোকাবেলায় সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

Tags: awami league bangladesh politics arson attack dhaka police political violence dmp commissioner