• ব্যবসায়
  • আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে বড় সিদ্ধান্ত: ছেঁড়া নোট বদলসহ গ্রাহকদের ৫ সরাসরি সেবা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে বড় সিদ্ধান্ত: ছেঁড়া নোট বদলসহ গ্রাহকদের ৫ সরাসরি সেবা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে বড় সিদ্ধান্ত: ছেঁড়া নোট বদলসহ গ্রাহকদের ৫ সরাসরি সেবা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে শুরু মতিঝিল অফিস দিয়ে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বাড়বে চাপ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি; জোর দেওয়া হচ্ছে Digitisation ও Security Protocols-এর ওপর।

দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি গ্রাহকদের প্রদান করা পাঁচ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ক্যাশ বিভাগকে আধুনিকায়ন এবং মূল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে এই সেবা কার্যক্রমগুলো স্থগিত করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় অফিসেও একই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

যে পাঁচ সেবা বন্ধ হচ্ছে: Automation প্রক্রিয়ার অংশ

বাংলাদেশ ব্যাংক যে পাঁচটি সরাসরি গ্রাহকসেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রধানত নগদ লেনদেন এবং সরকারি সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত সেবা অন্তর্ভুক্ত:

১. ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় (Torn Note Exchange)

২. সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও নগদায়ন (Savings Bond Sale and Encashment)

৩. প্রাইজবন্ড বিক্রি ও লেনদেন (Prize Bond Sale)

৪. সরকারি ট্রেজারি চালান গ্রহণ (Government Treasury Challan Acceptance)

৫. চালানভিত্তিক ভাংতি টাকা প্রদান (Challan-Based Change Distribution)

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর মাস থেকে মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্র এবং প্রাইজবন্ড কেনাবেচার মতো সরাসরি নগদ লেনদেন সংক্রান্ত আর কোনো Transactional Service পাওয়া যাবে না। এই সিদ্ধান্ত মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের Back-End Support এবং Automation প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

সীমিত পরিসরে চালু থাকবে অন্যান্য সেবা

মতিঝিল অফিসের ১৬টি কাউন্টারে বর্তমানে যে কয়েকটি সেবা চালু রয়েছে, তার মধ্যে সীমিত কিছু সেবা আপাতত অব্যাহত থাকবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ধাতব মুদ্রা বিনিময়, স্মারক মুদ্রা বিক্রি, অপ্রচলিত নোটের বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কাজ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেন সম্পর্কিত সেবা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এসব সেবার প্রয়োজনীয়তাও ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক ব্যাংক বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে ন্যস্ত করে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকে মিলবে সব সুবিধা: বাড়বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ করছে, গ্রাহকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং পোস্ট অফিসগুলোতে আগের মতোই সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড ও ছেঁড়া নোট বদলের মতো সব সুবিধা পাওয়া যাবে।

তবে এই পরিবর্তনের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর গ্রাহকসেবার চাপ বাড়বে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মর্মে উদ্যোগ নিয়েছে যে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন নির্বিঘ্নে এবং যথাযথ মান বজায় রেখে এই সেবাগুলো দিতে পারে, সেজন্য তাদের Oversight বা তদারকি আরও বাড়ানো হবে।

কেন এই সেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্যাশ বিভাগ আধুনিকায়ন, মূল ভবনের নিরাপত্তা জোরদার এবং নতুন Automated Vault বা স্বয়ংক্রিয় ভল্ট স্থাপনের অংশ হিসেবেই সেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নির্দেশে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা জানান, সেবাবন্ধের কারণ মূলত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা (Security Protocols) অনুসরণ এবং Digitalisation প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়া। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্র Server জালিয়াতির একটি ঘটনা সামনে এলেও, কর্মকর্তারা সেবাবন্ধের মূল কারণ হিসেবে নিরাপত্তা ও আধুনিকায়নকেই উল্লেখ করেছেন।

গ্রাহকদের বিভ্রান্তি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিগগিরই সেবা বন্ধের বিষয়ে ব্যাপক Public Awareness Campaign বা প্রচারণা চালাবে। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্রের মোট ৩০ শতাংশ গ্রাহকসেবা দেওয়া হয়। সেবা বন্ধ হলে এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের চাপ সামলাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tags: bangladesh bank savings bond prize bond commercial bank note exchange motijheel office modernization cash services