মামলার পটভূমি ও জামিন
পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ১৯ বছর বয়সী ছোট ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক 'অজানা ব্যক্তি' মামলা দায়ের করেন। নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার একটি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করে।
গত রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক আফরোজা তানিয়া-এর আদালতে আত্মসমর্পণ (Surrender) করে মেহজাবীন ও তার ভাই জামিন (Bail) লাভ করেন। আদালত এ সংক্রান্ত জবাব দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
মেহজাবীনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও অভিযোগ খণ্ডন (Refutation)
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবরের পর সোমবার (১৭ নভেম্বর) ছোটপর্দার জনপ্রিয় এই তারকা তাঁর ফেসবুক পেজে একটি 'অফিসিয়াল বিবৃতি' (Official Statement) প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি আনীত অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তুগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. যোগাযোগের প্রমাণের অভাব: অভিযোগকারী দাবি করেন তিনি ২০১৬ সাল থেকে মেহজাবীনকে ফেসবুকে মেসেজ দিতেন। কিন্তু তিনি মেহজাবীনের পক্ষ থেকে কোনো মেসেজ বা উত্তর, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) বা মোবাইল নম্বরে কোনো যোগাযোগের প্রমাণ, বা একটি স্ক্রিনশটও দেখাতে পারেননি।
২. আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ নেই: মেহজাবীনের বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ আনা হলেও, অভিযোগকারী এর সপক্ষে কোনো ব্যাংক লেনদেন, চেক, বিকাশ লেনদেন (Bikash Transaction), লিখিত চুক্তি, রশিদ, বা কোনো সাক্ষী— একটি কাগজপত্রও জমা দিতে পারেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ নেই।"
৩. পরিচয় অসম্পূর্ণ ও আইনজীবীর ফোন বন্ধ: তিনি অভিযোগ করেন, অভিযোগকারীর সম্পূর্ণ পরিচয়পত্র (Identity Card) এখনও জমা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর এনআইডি (NID) পর্যন্ত অনুপস্থিত। এছাড়া, খবর প্রকাশের পর থেকে অভিযোগকারী ও তাঁর আইনজীবীর ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।
৪. 'হাতিরঝিল'-এর ঘটনা প্রমাণহীন: অভিযোগকারী দাবি করেন, ১১ ফেব্রুয়ারি মেহজাবীন তাঁর ছোট ভাইসহ ৪-৫ জনকে নিয়ে তাঁকে চোখ বেঁধে হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে (Restaurant) নিয়ে গিয়েছিলেন। মেহজাবীন প্রশ্ন তোলেন, ঢাকার সবচেয়ে বেশি সিসিটিভি (CCTV)-নিয়ন্ত্রিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ৯ মাসে তিনি সেই রেস্টুরেন্ট বা আশেপাশের রাস্তার এক সেকেন্ডেরও সিসিটিভি ফুটেজ বা কোনো সাক্ষী দেখাতে পারেননি।
৫. নোটিশ না পাওয়ার দাবি: অভিনেত্রী জানান, এই ৯ মাসে তিনি কোনো পুলিশ স্টেশনের ফোন কল বা কোর্টের নোটিশ (Court Notice) বা ডকুমেন্ট পাননি। নোটিশ পেলে অনেক আগেই তিনি আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) নিতেন।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা ও মিডিয়া ট্রায়াল প্রসঙ্গে
মেহজাবীন বলেন, এই মামলার কোনো ভিত্তি না থাকলেও, অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার খবর জানার পর তিনি আইনি প্রক্রিয়া মেনে জামিন নিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, "প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা মামলা কখনও সত্য হয়ে যায় না। সত্য খুব দ্রুতই আদালতে পরিষ্কার হয়ে যাবে।"
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "এখনকার দিনে কাউকে অপমান করা, মানহানি করা বা ভাইরাল হওয়ার জন্য অন্যকে ব্যবহার করা খুবই সহজ হয়ে গেছে।" তিনি সকলকে অনুরোধ জানান, "দয়া করে সহানুভূতিশীল হোন, দয়া করে মানবিক হোন, এবং কাউকে না জেনে কোনো মিডিয়া ট্রায়াল (Media Trial) শুরু করবেন না।"
১৫ বছরের কর্মজীবনের নিষ্ঠার পরেও আজ তাঁকে এসব ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে—এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।