• বিনোদন
  • ৩০ বছরের বৃত্ত ভেঙে রুপোলি পর্দায় প্রসেনজিৎ-দেবশ্রী? ‘প্রাক্তন ২’ ঘিরে টলিউডে তুমুল জল্পনা

৩০ বছরের বৃত্ত ভেঙে রুপোলি পর্দায় প্রসেনজিৎ-দেবশ্রী? ‘প্রাক্তন ২’ ঘিরে টলিউডে তুমুল জল্পনা

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
৩০ বছরের বৃত্ত ভেঙে রুপোলি পর্দায় প্রসেনজিৎ-দেবশ্রী? ‘প্রাক্তন ২’ ঘিরে টলিউডে তুমুল জল্পনা

শিবপ্রসাদ-নন্দিতার পরিচালনায় ঋতুপর্ণাকেও নিয়ে ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত দিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিন দশকের অপেক্ষার অবসানের আশায় বাঙালি দর্শক।

টলিউডের আকাশে এক অভাবনীয় পুনর্মিলনের মেঘ। দীর্ঘ ৩০ বছরের দীর্ঘস্থায়ী বিচ্ছেদের পর আবারও কি এক ফ্রেমে দেখা যাবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও দেবশ্রী রায়কে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার বিনোদন জগতে। সৌজন্যে, স্বয়ং ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য, যা উস্কে দিয়েছে এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের জল্পনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মহাতারকা জানিয়েছেন, প্রাক্তন স্ত্রী দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে কাজ করতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। শুধু তাই নয়, পরিচালক জুটি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায় তাঁদের তিনজনকে—প্রসেনজিৎ, দেবশ্রী এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে—নিয়ে ‘প্রাক্তন ২’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাঙালি সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

কী বললেন প্রসেনজিৎ? ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন যে পেশাদার সম্পর্কে বাধা হতে পারে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রসেনজিৎ। বিচ্ছেদের সেই কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিচ্ছেদের সময় আমার বয়স ছিল খুবই কম, ২০-২১। আমার শুধু হৃদয় ভেঙেছিল তাই নয়, আমি অত্যন্ত লজ্জিত ছিলাম। লোকের সামনে কীভাবে মুখ দেখাব, সেই চিন্তা আমাকে তাড়া করে বেড়াত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, অতীতের তিক্ততা ভুলে তাঁরা এখন বন্ধু। তাই পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকে একসঙ্গে কাজ করতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর কথায়, "শিবু (শিবপ্রসাদ) আর নন্দিতা ‘প্রাক্তন ২’ করতে চান আমাকে, দেবশ্রীকে আর ঋতুকে (ঋতুপর্ণা) নিয়ে।" এই একটি বাক্যই টলিউডের সমীকরণ বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এক সময়ের সেরা জুটি ও ৩০ বছরের অপেক্ষা নব্বইয়ের দশকে প্রসেনজিৎ-দেবশ্রী জুটি ছিল বক্স অফিসের অন্যতম সফল অস্ত্র। ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁরা ছিলেন একে অপরের সঙ্গী। অল্প বয়সেই শৈশবের বন্ধুত্ব গড়িয়েছিল পরিণয়ে। কিন্তু ১৯৯২ সালে বাঁধা সেই গাঁটছড়া তিন বছরের মাথায়, ১৯৯৫ সালে ভেঙে যায়। তারপর থেকে পেশাগত জীবনেও তাঁরা একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তাঁদের শেষ অভিনীত সিনেমা ছিল ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত কালজয়ী ছবি ‘উনিশে এপ্রিল’ (১৯৯৪), যা তাঁদের বিচ্ছেদের ঠিক আগেই মুক্তি পেয়েছিল। এরপর কেটে গিয়েছে তিনটি দশক, একসঙ্গে আর পর্দায় দেখা যায়নি এই জুটিকে।

অন্যদিকে, প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটি টলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল জুটিগুলোর মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতির পর এই জুটিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা, তাঁদের ২০১৬ সালের সাড়াজাগানো ছবি ‘প্রাক্তন’-এর মাধ্যমে। সেই সিনেমার সাফল্য এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছিল। এ বার সেই পরিচালক জুটিই যদি প্রসেনজিৎ-দেবশ্রী জুটির ৩০ বছরের নীরবতা ভাঙতে উদ্যোগী হন, তবে তা নিঃসন্দেহে বাংলা সিনেমার জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা হবে।

প্রত্যাশার পারদ চড়ছে যদিও এখনও পর্যন্ত পরিচালক জুটি বা দেবশ্রী রায়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে প্রসেনজিতের এই মন্তব্যকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ চড়ছে। ‘প্রাক্তন’ যেখানে এক ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নের গল্প বলেছিল, সেখানে ‘প্রাক্তন ২’ যদি তিন মহাতারকাকে এক ফ্রেমে নিয়ে আসে, তবে তার প্রেক্ষাপট এবং গভীরতা কোন স্তরে পৌঁছাবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে গবেষণা।

এই ঐতিহাসিক পুনর্মিলন কি সত্যিই সম্ভব হবে? বাঙালি দর্শক কি ৩০ বছর পর আবার রুপোলি পর্দায় তাঁদের প্রিয় জুটিকে ফিরে পাবে? এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

Tags: tollywood news bengali cinema prosenjit chatterjee debashree roy rituparna sengupta praktan 2 shiboprosad mukherjee nandita roy celebrity reunion windows production