• জাতীয়
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় এবার 'রাজসাক্ষী' আরেক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় এবার 'রাজসাক্ষী' আরেক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় এবার 'রাজসাক্ষী' আরেক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অ্যাপ্রুভার হয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এবার অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হক। জবানবন্দিতে তিনি ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলিতে হত্যা ও তাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনার বিবরণ দেন।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই জবানবন্দি দেন। এর ফলে, এই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় কোনো পুলিশ সদস্য অ্যাপ্রুভার হিসেবে সাক্ষ্য দিলেন।

অ্যাপ্রুভার হিসেবে দ্বিতীয় পুলিশ সদস্যের জবানবন্দি

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ আবজালুল হক ঢাকার আশুলিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। আশুলিয়ায় সংঘটিত ছয়জন ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা ও পরবর্তীতে লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই মামলায় ২৩তম সাক্ষী হিসেবে আজ তিনি জবানবন্দি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় অ্যাপ্রুভার হয়েছিলেন। সেই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার রায় গত সোমবার ঘোষণা করা হয়।

আশুলিয়ার হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শেখ আবজালুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আশুলিয়া এলাকায় ছাত্র-জনতা একটি বিজয় মিছিল বের করেন। সেই মিছিল থানার দিকে এলে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদের নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎ সাহাসহ আরেকজন পুলিশ সদস্য গুলি ছোড়েন।

আবজালুল জানান, তিনি গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত 'ট্রমা'য় ছিলেন। ১৫ আগস্ট তিনি আশুলিয়া থানা এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান এবং সেদিনই তিনি অস্ত্রাগারের দায়িত্বে থাকা এসআই আউয়ালের কাছে তার নামে ইস্যু করা ১০টি গুলিই জমা দেন।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য ও আসামিদের তালিকা

জবানবন্দি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিং করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন আবজালুল। তবে তিনি লাশ পোড়ানোর ঘটনা দেখেননি, লাশে আগুন দেওয়ার কথা শুনেছেন। প্রসিকিউশন মনে করে, আবজালুল আশুলিয়ার ঘটনা সম্পর্কে পূর্ণ সত্য প্রকাশ করেছেন।

আশুলিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। এদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহাসহ মোট আটজন আসামি পলাতক রয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া বাকি আসামিরা হলেন: ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী ও মো. শহিদুল ইসলাম (সাভার সার্কেল); ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান ও শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

জবানবন্দি শেষে এ মামলার আসামি আবদুল্লাহিল কাফীর আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান তাকে জেরা করেন।

Tags: international crimes tribunal approver police si icrimes tribunal ashulia murder july mass uprising human rights violation witness testimony