• জীবনযাপন
  • কুমিল্লার অনাবাদি জমিতে এক অচিন সৌন্দর্যের হাতছানি

কুমিল্লার অনাবাদি জমিতে এক অচিন সৌন্দর্যের হাতছানি

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
কুমিল্লার অনাবাদি জমিতে এক অচিন সৌন্দর্যের হাতছানি

ব্রাহ্মণপাড়ার দুলালপুর ইউনিয়নের পরিত্যক্ত জমিতে প্রকৃতির নিজস্ব ক্যানভাসে ফুটেছে নীলচে-বেগুনি রঙের এই বুনো ফুল; সাধারণ আগাছা হিসেবে পরিচিত হলেও এর ভেষজ গুণ ও নান্দনিকতা এখন স্থানীয়দের বিস্ময়ের খোরাক।

প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে সাজ ফোটে, যার নাম হয়তো অনেকেরই অজানা, কিন্তু তার সৌন্দর্য চোখ এড়ায় না। ঠিক তেমনই এক অচেনা রূপবতী ফুলের নাম ‘হাইড্রোলিয়া জেইলানিকা’ (Hydrolea zeylanica)। নামটি কিছুটা খটমিয়ে তোলে ধরিত্রীকে, যেখানে মানুষের কোনো হাত থাকে না। তেমনই এক অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছেট বা অদ্ভুত শোনালেও, এর রূপের জৌলুস যেকোনো পথচারীকে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। সম্প্রতি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। নাম তার ‘হাইড্রোলিয়া জেইলানিকা’ (Hydrolea zeylanica কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের অনাবাদি ও জলাশয় সংলগ্ন জমিগুলোতে বেগুনি আভার এই ফুল প্রকৃতিতে এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

নীল-বেগুনির মিশেলে এক)। নামটি সাধারণের কাছে কিছুটা দুর্বোধ্য ও অদ্ভুত ঠেকলেও, এই উদ্ভিদের ফুলের জৌলুস এখন অনাবিল সৌন্দর্য

সরেজমিনে দেখা যায়, দুলালপুর এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তরে অযত্নে বেড়ে ওঠা প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমি এখন ঝোপঝাড় আর ভেজা মাটিতে ফুটে আছে অজস্র হাইড্রোলিয়া জেইলানিকা। ছোট আকৃতির এই ফুলটির পাঁচটি ছেয়ে গেছে এই নীলচে-বেগুনি রঙের বুনো ফুলে।

নান্দনিক রূপ ও মুগ্ধ পাপড়ি, যা বিন্যস্ত হয়েছে এক নিখুঁত জ্যামিতিক ছন্দে। পাপড়ির রঙ মূলত বেতা

হাইড্রোলিয়া জেইলানিকার প্রধান আকর্ষণ এর ক্ষুদ্রাকৃতি অথচ উজ্জ্বল ফুল। বেগুনি রঙের পাঁচটি পাপগুনি হলেও তাতে নীলের এক গভীর আভা রয়েছে, যা রোদের আলোয় ঝলমল করে ওঠে। এর মাঝখানে থাকা কেশরগুলো ফুলটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক ও বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম তার মুগ্ধতা প্রকাশ করেড়ি এবং তার কেন্দ্রে সুবিন্যস্ত কেশর—সব মিলিয়ে এক অসাধারণ Visual Treat তৈরি করেছে। মূলত জলাশ বলেন, “আমাদের বাড়ির পাশের ফসলি মাঠের পরিত্যক্ত জমিতে এই গাছ জন্মেছে। সাধারণত আমরা এগুলোকে আগাছা হিসেবেয়ের ধারে বা ভেজা মাটিতে জন্ম নেওয়া এই উদ্ভিদটি যখন দলবেঁধে ফোটে, তখন দূর থেকে মনে হয় কেউই দেখি, কিন্তু এবার এর বেগুনি রঙের ফুলগুলো আমাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করছে। ফুলগুলো ছোট হলেও এর সমষ্টি যেন সবুজ গালিচার ওপর বেগুনি রঙের আলপনা এঁকে দিয়েছে।

দুলালপুর এলাকার বিস্তীর্ণ অনগত সৌন্দর্য ফসলি মাঠের চেহারা পাল্টে দিয়েছে।”

উদ্ভিদতাত্ত্বিক পরিচয় ও বিস্তার

উদ্াবাদি জমিতে এই ফুলের সমারোহ দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারীরা। এর Naisargikভিদবিজ্ঞানীদের মতে, এই উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Hydrolea zeylanica (L.) Vahl Beauty (নৈসর্গিক সৌন্দর্য) এতটাই প্রবল যে, স্থানীয় কৃষক থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও। সাধারণ মানুষের কাছে এর পরিচিতি কম থাকলেও উদ্ভিদজগত বা Botany-তে এর গুরুত্ব কম নয়। এটি ‘সোলানালেস’ (Solanales) বর্গের ‘হাইড্রোলিয়াসিয়া’ (Hydroleaceae) গোত্রের অন্তর্গত একটি প্রজাতি। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ব্লু ওয়াটারলিফ’ (Blue Waterleaf) বা ‘সিলোন ফুলপ্রেমী—সবাই বিমোহিত হচ্ছেন। উপেক্ষিত আগাছার ভিড়ে এমন রত্নভাণ্ডার খুঁজে হাইড্রোলিয়া’ (Ceylon Hydrolea) নামেও পরিচিত।

হাইড্রোলিয়া জেইলানিকা মূলত একটি জল পাওয়া যেন প্রকৃতির এক বিস্ময়কর উপহার।

বৈজ্ঞানিক পরিচিতি ও বিস্তৃতি

উদ্ভিদজ বা ‘Aquatic Plant’ প্রজাতি এবং এটি একটি বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় সপুষ্পবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি জলজ ঘরানার প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Hydrolea zeylanica (ক উদ্ভিদ। এর আদিনিবাস ও বিস্তৃতি বেশ ব্যাপক। সাধারণত অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন উপক্রান্তীয়L.) Vahl। এটি Solanales বর্গের Hydroleaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। বিশ্ব (Sub-tropical) অঞ্চলে এর দেখা মেলে। বাংলাদেশ ও ভারতের জলবায়ু এই উদ্ভিদের বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্তব্যাপী এটি ‘ব্লু ওয়াটারলিফ’ (Blue Waterleaf) বা ‘সিলোন হাইড্রোলিয়া’ (Ceylon Hydro উপযোগী। এটি সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়া এবং ভেজা মাটিতে জন্মায়। গাছটি লম্বায় ১৬ থেকে ৩০ সেন্টিমিটারlea) নামেও পরিচিত।

এটি মূলত একটি বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ বা পর্যন্ত হতে পারে এবং এর কাণ্ড ও পাতা সামান্য লোমযুক্ত হয়।

আগাছা নাকি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ?

কৃষকদের কাছে এটি সাধারণ আগাছা বা Weed হিসেবে পরিচিত হলেও, এর রয়েছে বিশেষ Aquatic Herb। এর কান্ড এবং পাতা সাধারণত লোমযুক্ত হয় এবং উচ্চতায় এটি ১৬ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ভৌগোলিক বিস্তৃতির দিক থেকে এটি এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভেষজ গুণ। গ্রামীণ চিকিৎসায় বা অয়ুর্বেদে এর ব্যবহার খুব একটা প্রচলিত না হলেও, উদ্ভিদSubtropical (উপক্রান্তীয়) অঞ্চলে সহজলভ্য। বাংলাদেশ ও ভারতের আর্দ্র আবহাওয়া এবং জলাভূমি সংবিজ্ঞানীরা এর ঔষধি গুণের কথা স্বীকার করেন। তবে বর্তমানে এর ঔষধি গুণের চেয়ে ‘Ornamental Value’ বা শোভাবর্ধক গুণই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে স্থানীয়দের কাছে।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “লগ্ন এলাকায় এটি প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে।

যদিও কৃষি জমিতে একে অনেকেই সাধারণ আগাছা বা Weedপ্রকৃতিতে নাম জানা ও না-জানা অসংখ্য উদ্ভিদ রয়েছে। প্রতিটি উদ্ভিদেই ফুল ফোটে এবং তা প্রকৃতিকে রঙিন করে হিসেবে গণ্য করেন, তথাপি এর রয়েছে বিশেষ Medicinal Value বা ভেষজ গুণ। গ্রামীণ চিকিৎসায় তোলে। হাইড্রোলিয়া জেইলানিকা ফুলের নাম আগে জানতাম না, তবে ফসলি মাঠে বহুবার দেখেছি। য এর পাতার ব্যবহার বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, যা আধুনিক গবেষণারও বিষয়বস্তু হতে পারে।

স্থানীয়দের উচ্ছ্বাস ও প্রকৃতিরান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় প্রকৃতির এই ছোট ছোট দানগুলো উপভোগ করতে ভুলে যাই, অথচ এই ছোট আকৃতির ফুলগুলোই মনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে।”

প্রকৃতির এই অকৃপণ দান যেন মনে করিয়ে দেয়, অবদান

অনাদরে বেড়ে ওঠা এই বুনো ফুল এখন স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে প্রশান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বাড়ির পাশের ফসলি মাঠের পরিত্যক্ত জমিতে প্রহেলায় পড়ে থাকা জ নিয়েও কত সুন্দর হতে পারে আমাদের পরিবেশ। গ্রামবাংলার মেঠো পথে অযত্নে ফোটা এই হাইড্রোলিয়া জেইলানিকা এখন স্থানীয়দের কাছে এক নতুন ভালোলাগার নাম।

hydrolea zeylanica, wild flower,াকৃতিকভাবেই এই গাছ জন্মেছে। আগে আমরা একে আগাছা ভাবতাম, কিন্তু এখন এর বেগুনি রঙের ফুল আমাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করছে। ফুলগুলো ছোট হলেও এর সৌন্দর্য উপেক্ষা করার মতো নয়।”

দুলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তাঁর মতে, “প্রকৃতিতে নাম জানা ও না-জানা হাজারো উদ্ভিদ রয়েছে। প্রতিটি উদ্ভিদের ফুল ফোটার নিজস্ব ছন্দ আছে, যা প্রকৃতিকে রঙিন করে এবং মানুষের Mental Wellness-এ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। হাইড্রোলিয়া জেইলানিকা নামটা আগে জানা ছিল না, তবে ফসলি মাঠে এটি বহুবার দেখেছি। এখন এর সৌন্দর্যে মন জুড়িয়ে যাচ্ছে।”