• রাজনীতি
  • সংসদের পথে ‘জুলাইয়ের যোদ্ধা’ রিকশাচালক সুজন; ঢাকা-৮ আসনে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন হেভিওয়েটদের

সংসদের পথে ‘জুলাইয়ের যোদ্ধা’ রিকশাচালক সুজন; ঢাকা-৮ আসনে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন হেভিওয়েটদের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
সংসদের পথে ‘জুলাইয়ের যোদ্ধা’ রিকশাচালক সুজন; ঢাকা-৮ আসনে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন হেভিওয়েটদের

‘লুটেরারা পারলে আমি কেন নই?’—এনসিপির মনোনয়ন কিনে ঝাঁজালো বক্তব্য; মির্জা আব্বাসের সঙ্গে লড়াইয়ের আভাস

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ, রিকশাচালক মো. সুজন এবার জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোতে। রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে লড়ার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) Nomination Paper বা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তিনি। সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তার এই পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনে এক ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন আলোচিত এই ‘জুলাইয়ের যোদ্ধা’।

লুটেরাদের বিরুদ্ধে সাধারণের হুঙ্কার

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মো. সুজন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রচলিত রাজনৈতিক জৌলুসের বিরুদ্ধে এক বড়সড় আঘাত। নিজের প্রার্থিতার যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘‘যারা এতিমের টাকা মেরে খায়, যারা রাজনীতি না করে যাত্রাপালা করে সংসদে যেতে পারে; আমি একজন রিকশাচালক হয়ে কেন সংসদে যেতে পারব না?’’

তার এই মন্তব্যে তথাকথিত অভিজাত রাজনীতির প্রতি ক্ষোভ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সুজন মনে করেন, সংসদ কেবল ধনীদের ক্লাব নয়, বরং সেখানে সমাজের তৃণমূল বা Grassroots পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকা অপরিহার্য।

মনোনয়ন অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতাদের উপস্থিতি

সুজনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা তাকে স্বাগত জানান। এনসিপি নেতারা মনে করছেন, সুজনের মতো প্রার্থীরাই আগামীর ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্রকৃত Game Changer হিসেবে আবির্ভূত হবেন।

ঢাকা-৮: হেভিওয়েটদের ভিড়ে সুজনের লড়াই

ঢাকা-৮ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ভিআইপি কনস্টিটিউয়েন্সি’ বা High Profile Constituency হিসেবে পরিচিত। মতিঝিল, পল্টন ও রমনার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে সুজনকে লড়তে হবে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে।

ইতিমধ্যেই এই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী স্বতন্ত্র প্রার্থী বা Independent Candidate হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এমন কঠিন সমীকরণের মধ্যে একজন রিকশাচালকের নির্বাচনী দৌড়ে নামা রাজনীতিতে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ লড়াইয়ের আবহ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুজনের অংশগ্রহণ নির্বাচনে হার-জিতের চেয়েও বড় এক প্রতীকী বার্তা বহন করছে—যা প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বা Political Establishment-এর প্রতি এক বড় চ্যালেঞ্জ।

Tags: bangladesh politics national citizens party july uprising ncp candidate rickshaw puller sujon dhaka-8 election mirza abbas