• বিনোদন
  • ‘বয়স বেশি না, তবুও এমন কেন হয়?’— সোশ্যাল মিডিয়ার ক্লান্তিতে হতাশ অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান?

‘বয়স বেশি না, তবুও এমন কেন হয়?’— সোশ্যাল মিডিয়ার ক্লান্তিতে হতাশ অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান?

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
‘বয়স বেশি না, তবুও এমন কেন হয়?’— সোশ্যাল মিডিয়ার ক্লান্তিতে হতাশ অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান?

ছবি পোস্ট করাকে ‘প্রেশার’ মনে করছেন ‘কাজল রেখা’ খ্যাত এই তারকা। তার এই উপলব্ধি কি আজকের প্রজন্মের ডিজিটাল ক্লান্তিরই প্রতিচ্ছবি?

ওয়েব সিরিজ ‘তাকদীর’ থেকে শুরু করে ‘কাজল রেখা’ বা ‘উৎসব’-এর মতো প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে অল্প সময়েই দর্শক-সমালোচকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। অভিনয়ের দ্যুতির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তার সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে সম্প্রতি তার একটি পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি তার ডিজিটাল ক্লান্তি বা অবসাদের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ার ‘প্রেশার’ ও তার পেছনের গল্প

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সাদিয়া একটি পোস্ট করেন, যা তার অনুসারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি লেখেন, “আমার অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর ছবি, ভিডিও জমে গিয়েছে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। পোস্ট করবো করবো করে করাই হলো না! এখন আর ইচ্ছাও করছে না সেগুলো পোস্ট করতে।”

কেন এই অনীহা? সেই ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। একটি ছবি বা ভিডিও পোস্ট করার পেছনের শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে সাদিয়া বলেন, “একটা ছবি কিংবা ভিডিওর পেছনে কত এফোর্ট দিতে হয়! ছবি সিলেক্ট, এডিট, এরপর গান সিলেক্ট করা! এখন এগুলো অনেক প্রেশার লাগে।”

তার হতাশার মূল সুরটি ছিল এই চাপকে ঘিরেই। নিজের বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন অনুভূতি হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, “নাহ, আমার বয়সও তো বেশি না, তবুও এমন কেন হয়? আচ্ছা, এমনটা কি আপনাদের সাথেও হয়?” এখানেই শেষ নয়, কমেন্ট বক্সে তিনি আরও যোগ করেন, “ওহ! পোস্টের সাথে আবার রিলেটেবল ক্যাপশনও ভাবতে হয়! এটার কথা বল[3][4]তে তো ভুলেই গিয়েছিলাম!”

তারকাদের ডিজিটাল ক্লান্তি ও ভক্তদের একাত্মতা

সাদিয়ার এই অকপট স্বীকারোক্তি মুহূর্তেই তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার এই অনুভূতির সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করেছেন। তারকাদের ঝলমলে পর্দার আড়ালে যে একটি সাধারণ জীবন রয়েছে, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চাপ তাদেরও ক্লান্ত করে, সাদিয়ার পোস্ট যেন সেই বাস্তবতাই তুলে ধরেছে।

এক অনুসারী তার মন্তব্যে লেখেন, “একদম সত্যি কথা। পোস্ট করবো ভাবতে ভাবতে মুডটাই বদলে যায়।” আরেকজন লেখেন, “পরিস্থিতি সব সময় এক থাকে না, মন খারাপ থাকলে কোনো কিছুই ভালো লাগে না।”

মূলত, প্রতিনিয়ত নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করার যে সামাজিক চাপ, তা যে কতটা ক্লান্তিকর হতে পারে, সাদিয়ার এই পোস্ট সেই বিতর্ককেই নতুন করে উস্কে দিল। এটি শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত উপলব্ধি নয়, বরং আজকের ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের এক নীরব আর্তনাদ, যেখানে ভার্চুয়াল জগতের পারফেকশনের চাপ বাস্তব জীবনের সহজ আনন্দকে ফিকে করে দিচ্ছে।

Tags: social media dhallywood bangladeshi actress mental health web series sadia ayman digital fatigue