জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সুনিধি নায়েক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ক্ষোভ উগরে দিলেন, তা নজিরবিহীন। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি একদল মানুষকে ‘হিংস্র, অশিক্ষিত জানোয়ার’ বলে অভিহিত করেছেন। তার এই তীব্র ক্ষোভের কারণ, বাড়িতে পোষ্য কুকুর রাখতে না দেওয়ার নিয়ম। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে সরাসরি আক্রমণ
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনিধি তার পোস্টে ঢাকার অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা নিকেতন সোসাইটির মালিকদের উদ্দেশ্য করে লেখেন, "নিকেতন সোসাইটির মালিকদের উদ্দেশ্যে বলছি- আপনারা বাসায় কুকুর রাখার অনুমতি দেন না, তার একমাত্র কারন আপনারা নিজেরাই এক একটা হিংস্র, অশিক্ষিত জানোয়ার। ধন্যবাদ।"
পোস্টের বক্তব্যে যেমন ঝাঁঝ ছিল, তেমনই তার উপস্থাপনাতেও ছিল প্রতিবাদী সুর। ব্যাকগ্রাউন্ডে তিনি আমেরিকার জনপ্রিয় র্যাপার কেনড্রিক লামারের সাম্প্রতিক আলোচিত গান ‘দে নট লাইক আস’ জুড়ে দেন, যা তার বার্তার গভীরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শিল্পীর এমন চাঁচাছোলা মন্তব্যে স্পষ্ট যে, পোষ্যপ্রাণীদের প্রতি সোসাইটির এই কঠোর নীতি তাকে এভাবে হতাশ ও ক্রুদ্ধ করেছে।
নেটদুনিয়ায় শোরগোল ও পোষ্যপ্রেমীদের সমর্থন
সুনিধির পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনরা দ্বিধাবিভক্ত মতামত জানাতে শুরু করেন। তবে সিংহভাগ মন্তব্যকারীই সুনিধির বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিশেষ করে যারা পোষ্য ভালোবাসেন, তারা এই নিয়মকে অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক অনুরাগী স্বামী বিবেকানন্দের বাণী উদ্ধৃত করে লেখেন, "জীবে পরেম করে যেইজন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।" আরেকজন তার পোষ্য কুকুরের ছবি দিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "সত্যিই? আর আমি ভাবছিলাম আমার লুনাকে (পোষ্য) নিয়ে সেখানে একটা বাসা নেব!" বোঝাই যাচ্ছে, এই নিয়ম বহু পোষ্যপ্রেমী মানুষের জন্যই একটি বড় বাধা।
শিল্পী পরিচয় ও বিতর্কের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, সুনিধি নায়েক আসামের মেয়ে হলেও কলকাতার সঙ্গীত জগতে তার একটি স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে। তবে বাংলাদেশে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সায়ান চৌধুরী অর্ণবের স্ত্রী। ২০২০ সালে তারা ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অর্ণবের স্ত্রী হওয়ার সুবাদে ঢাকাতেও তার নিয়মিত যাতায়াত এবং বসবাস। সম্ভবত নিকেতন এলাকায় বসবাসের অভিজ্ঞতা বা বাসা খোঁজার সূত্রেই তিনি এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, যার জেরে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে তার এই প্রতিবাদ পোষ্যপ্রাণীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।