ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় আবারও প্রকৃতির রুদ্র রূপ। ভয়াবহ এক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বিস্তীর্ণ এলাকা ছাইয়ের চাদরে ঢেকে গেছে, যার জেরে বৃহস্পতিবার শত শত আতঙ্কিত মানুষ ঘর বাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, দেশটির সরকার সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি, চলছে উদ্ধারকাজ
বৃহস্পতিবার সকালে জাভা দ্বীপের একটি আগ্নেয়গিরি থেকে বিপুল পরিমাণে লাভা, ছাই ও গরম গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতায় একাধিক বাড়িঘর এবং একটি স্থানীয় স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ কিছুটা শান্ত হলেও তা এখনও স্থিতিশীল নয় এবং ওঠানামা করছে। এই কারণে সর্বোচ্চ বা ‘Level IV’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রায় ১৯০ জন বাসিন্দাকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে আতঙ্কিত রাত
অগ্ন্যুৎপাতের পর প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়েছেন বহু মানুষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার কর্মকর্তা সুলতান সিয়াফাত জানিয়েছেন, প্রায় ৯০০ জন গ্রামবাসী স্থানীয় স্কুল, মসজিদ এবং বিভিন্ন গ্রামের কমিউনিটি হলে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “তারা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকলেও সম্ভবত এখনও আতঙ্কগ্রস্ত। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।” আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের চোখেমুখে ভয় আর অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে তারা এখন কেবল সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায়।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অফ ফায়ার’ (Ring of Fire)-এ অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ দেশ। দেশটিতে ১২০টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা প্রায়শই স্থানীয় মানুষের জীবনে এমন বিপর্যয় ডেকে আনে।