অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টেই চলছে চরম বোলার-ব্যাটারের লড়াই। পার্থের (Perth) কঠিন পিচে বল হাতে দুই দলের পেসাররাই (Pacer) দেখিয়েছেন অবিশ্বাস্য দাপট, যার ফলে ম্যাচের ভাগ্য মাত্র দু'দিনেই অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়াকে এই টেস্ট জিততে হলে প্রয়োজন ২০৫ রান। তবে এই উইকেটের চরিত্র বিবেচনা করে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও এই ‘টার্গেট’ (Target) জয় করা অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক কঠিন ‘চ্যালেঞ্জ’।
স্টার্কের 'টেন উইকেটস হল' (Ten Wickets Haul)
অ্যাশেজের এই উত্তেজনাপূর্ণ শুরুতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন অজি পেস তারকা মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc)। শনিবার (২২ নভেম্বর) ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে তিনি নিয়েছেন ৩টি উইকেট। প্রথম ইনিংসে তাঁর ঝুলিতে ছিল ৭টি উইকেট। অর্থাৎ, এই এক ম্যাচেই তিনি মোট ১০ উইকেট নিজের খাতায় যোগ করলেন। স্টার্কের এটি ১০১তম টেস্ট কেরিয়ারের (Test Career) দ্বিতীয়বার ১০ উইকেট শিকারের কীর্তি। তাঁর এই বিধ্বংসী ‘পারফরম্যান্স’ (Performance) অস্ট্রেলিয়ার জন্য জয়ের পথ মসৃণ করে দিয়েছে।
স্টার্কের পাশাপাশি ইংলিশদের দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন স্কট বোল্যান্ড (Scott Boland) ও ব্রেন্ডন ডগেটও। বোল্যান্ড একাই তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট, আর ডগেট ৩টি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করেছেন। অজি তিন পেসারের সম্মিলিত ‘পেস অ্যাটাকে’ (Pace Attack) ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটারই অর্ধশতকের (Fifty) ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। ৩২ বলে সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংসটি এসেছে গাস আটকিনসনের ব্যাট থেকে। এছাড়া ওলি পোপ ৩৩ এবং বেন ডাকেট ২৮ রান করেন। বাকিরা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি।
৪০ রানের লিড নিয়ে থমকে গেল ইংল্যান্ড
প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ড ১৭২ রানে অলআউট হওয়ার পর অজি ব্যাটারদেরও ক্রিজে স্থায়ী হতে দেননি ইংলিশ বোলাররা। দিন শেষে স্বাগতিকরা ১২৩ রান তুলতে হারিয়েছিল ৯ উইকেট। দ্বিতীয় দিনে তারা আর মাত্র ৯ রান যোগ করে, ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে কোনো ব্যাটারই ৩০ রানের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। অজিদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস (Ben Stokes) মাত্র ২৩ রান খরচায় তুলে নেন ৫টি উইকেট। ব্রাইডন কার্স ৩টি এবং জফরা আর্চার (Jofra Archer) ২টি উইকেট লাভ করেন।
প্রথম ইনিংস শেষে ইংল্যান্ড ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড (Lead) পেলেও, দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ‘পেস অ্যাটাক’-এর সামনে তারা সেই সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। সামগ্রিকভাবে, বোলারদের দাপটে এই টেস্ট এখন একটি লো-স্কোরিং থ্রিলারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পার্থের পিচে এখন পর্যন্ত পেসারদের যেভাবে সুবিধা মিলছে, তাতে ২০৫ রানের এই লক্ষ্য অর্জন করতে অজি ব্যাটারদের ধৈর্য এবং শক্তিশালী ‘টেকনিক্যাল’ (Technical) প্রতিরোধ গড়তে হবে। ইংলিশ বোলারদের সামনে অজি ব্যাটাররা কতটা টিকে থাকতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।