ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে (Tshering Tobgay) তিনদিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে ঢাকা পৌঁছানোর পর তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে (National Martyrs’ Memorial) পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাঁর এই সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক (Bilateral Relations) আরও জোরদার করার বার্তা বহন করছে।
স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রীয় সম্মান
সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে কয়েক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। সেসময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।
প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সেখানে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং স্মৃতিসৌধের প্রাঙ্গণে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে একটি বকুলের চারা রোপণ করেন।
ঢাকায় উষ্ণ অভ্যর্থনা
এদিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ড্রুক এয়ারের (Druk Air) একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (HSIA) অবতরণ করে। বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর পর তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং দেওয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা (Red Carpet Reception)। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Dr. Muhammad Yunus) বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কর্মসূচি
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেলে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠক করবেন।
সন্ধ্যায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে শেরিং তোবগের একটি একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠক দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা (Economic Cooperation), জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা (Regional Stability) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।
সন্ধ্যায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে (Formal Dinner) অংশ নেবেন। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।