• জাতীয়
  • স্বপ্ন, পরিশ্রম ও মানবিকতার মাধ্যমে দেশ গড়তে তরুণদের প্রতি অর্থ উপদেষ্টার আহ্বান

স্বপ্ন, পরিশ্রম ও মানবিকতার মাধ্যমে দেশ গড়তে তরুণদের প্রতি অর্থ উপদেষ্টার আহ্বান

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
স্বপ্ন, পরিশ্রম ও মানবিকতার মাধ্যমে দেশ গড়তে তরুণদের প্রতি অর্থ উপদেষ্টার আহ্বান

স্বপ্ন, পরিশ্রম ও মানবিকতার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘নবীন স্নাতকদের দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে দেশের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। আজ থেকে তোমরা বৃহত্তর অঙ্গনে প্রবেশ করলে। তোমাদের ওপর দায়িত্ব অনেক, আর সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।’

আজ রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ আয়োজিত সমাবর্তন ২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে সহানুভূতি, সহযোগিতা ও অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকলে চলবে না। সমাজ, পরিবার এবং দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হবে।

পরিশ্রমকে সফলতার প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমার ৩৫ বছরের চাকরি জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপে কঠোর পরিশ্রম করেছি। কোনো কিছুই একদিনে পাওয়া যায় না। পরিশ্রমই সাফল্যের মূল শক্তি।’

নবীন স্নাতকদের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘স্বপ্ন ছাড়া মানুষ এগুতে পারে না। তুমি ভবিষ্যতে কী করবে, কোন ক্ষেত্রে অবদান রাখবে-সে বিষয়ে এখন থেকেই চিন্তা করা উচিত।’ প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অতীতের তুলনায় এখন প্রতিযোগিতা কঠিন হলেও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সময়ে ততটা প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হইনি। এখন সময় বদলে গেছে, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।’

ড. সালেহউদ্দিন মায়েদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সন্তানদের সফলতার পেছনে মায়েদের ত্যাগ ও পরিশ্রম অপরিসীম। নিজের জীবন থেকে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। আমি তেমন কিছু করতে পারিনি। তাদের মা-ই স্কুলে নেওয়া-আনা থেকে শুরু করে সব দায়িত্ব পালন করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, দেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। মানবতা, সততা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘পৃথিবী একটাই। এটিকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফারাহনাজ ফিরোজ, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউনুছ মিয়া এবং রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আব্দুল মতিন।

সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা বৈষম্যহীন সমাজ চাই, যেখানে রাজনীতি হবে মানুষের অধিকার ও ক্ষমতায়নের জন্য।’ তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে নিজেদের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। অতীতে অন্যায়-অবিচার ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও মানুষের স্বপ্নই বহুবার সমাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, নিজেদের এবং দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখনই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়াও মানবিক, পরিবেশ ও নারীবন্ধব সমাজ গঠনে সবাইকে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সমাবর্তন ২০২৫-এ ৫টি অনুষদ ও ১৪টি বিভাগ থেকে মোট ১ হাজার ৪০৭ জন স্নাতককে ডিগ্রি দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ সিজিপি অর্জনের জন্য ৫টি অনুষদ থেকে ১০ শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক এবং আরও ৪০ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।

Tags: অঙ্গীকারবদ্ধ স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অর্থ উপদেষ্