• বিনোদন
  • সরকারে এসে বিবৃতি নয়, কাজটাই আমার অগ্রাধিকার: অস্বস্তি ও সমালোচনার মুখে বিস্ফোরক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকী

সরকারে এসে বিবৃতি নয়, কাজটাই আমার অগ্রাধিকার: অস্বস্তি ও সমালোচনার মুখে বিস্ফোরক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকী

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
সরকারে এসে বিবৃতি নয়, কাজটাই আমার অগ্রাধিকার: অস্বস্তি ও সমালোচনার মুখে বিস্ফোরক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকী

'আবুল সরকার' ইস্যুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হওয়া নিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট; "ইতিহাস গায়েব করার প্রকল্প ভাঙতে আরও আনকমফোরটেবল কাজ করব"

৪ দিনের অস্বস্তি ও সমালোচনার জবাব

সরকারে সংস্কৃতি উপদেষ্টা (Cultural Advisor) হিসেবে যোগ দেওয়ার পর প্রথম চার দিনই তাঁর জন্য 'অস্বস্তির' ছিল বলে জানিয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। অনেকেই তাঁকে চুপ করে থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করেছেন, যার উত্তরে ফারুকী বলেছেন, "আমাদের কাজ তো কাজটা করা। সরকারে বসে বিবৃতি দেয়া না।"

তবে 'সরকারে বসে বিবৃতি দেওয়া যায় না' বলার পরও তিনি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর নিজস্ব রেকর্ড তুলে ধরেছেন।

১. 'আবুল সরকার' গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা

আবুল সরকার নামের এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর পদক্ষেপ নিয়ে ফারুকী সমালোচিত হচ্ছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই খবর জানার সাথে সাথেই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (Ministry of Home Affairs) যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তাঁকে একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠানো হয় এবং "পরিস্থিতির উত্তাপ এবং ঝুঁকির দিকগুলো" ব্যাখ্যা করা হয়।

ফারুকী বলেন, "আমি বুঝতে পারি একটা সংকটের দিকে যাচ্ছে পুরা ব্যাপারটা।" তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যেকোনো ফৌজদারি অপরাধে (Criminal Offence) পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তিনি যোগ করেন, "আমি আমার পক্ষ থেকে যা যা করার বা বলার তা তা করছি এবং বলছি। এর বেশি এখানে লেখাও আমার পক্ষে সঙ্গত কারণে সম্ভব না।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি (Law and Order) এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির ক্ষেত্রে তাঁর বা তাঁর মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কোনো ক্ষমতা বা ভূমিকা নেই। এই সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্তের এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তিনি দেশবাসীর প্রতি ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "ধর্মীয় এবং সামাজিক সম্প্রীতিই কেবল আমাদের দেশটাকে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নিতে পারবে।"

২. সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু কেন ফারুকী?

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার 'ইন্টারেস্টিং প্যাটার্ন' লক্ষ্য করছেন বলে ফারুকী উল্লেখ করেন। তিনি আক্ষেপ করেন যে, কোনো সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়—লক্ষ্য শুধু ফারুকী। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সমালোচক, যারা তাঁর পরিচিত, তারা পূর্বে তাঁর মন্ত্রণালয়ের ডকুমেন্টারি (Documentary) বানানো নিয়েও আপত্তি তুলেছিল।

তিনি অনুমানের ভিত্তিতে বলেন, এই সমালোচকরা হয়তো অন্য কারণে তৈরি হওয়া গাত্রদাহ এখন 'আবুল সরকার' ইস্যুতে তাঁর ওপর ঢালছেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে তিনি বলেন, "এই কাজটা আমাকে করতেই হবে, কারণ শহীদেরা আমাকে এই কাজ করতেই পাঠিয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "সামনে আমাদের মন্ত্রণালয় আরও আনকমফোরটেবল (Uncomfortable) কাজে হাত দিবে।" তিনি জানিয়েছেন, "ইতিহাস গায়েব করে অথবা এর নির্বাচিত অংশ পেশ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইন্টেলেকচুয়াল কলোনি (Intellectual Colony) বানানোর যে প্রকল্প চলে আসছে বহু বছর, সেটাকে একদল তরুণ গবেষক যাচাই বাছাই করে দেখার কাজে হাত দিয়েছে।"

৩. 'লালন সেলিব্রেট করে আর বাউল মারে': ভণ্ডামি?

সমালোচনার দ্বিতীয় দিকটি নিয়ে ফারুকী বলেন, "মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে লালন সেলিব্রেট করে আর বাউল মারে! ভণ্ডামী!" তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে, বাউলকে কি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় মেরেছে? তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফকির-বাউলের ওপর এই অত্যাচারের ইতিহাস অনেক পুরোনো। এমনকি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলেও বাউলদের ওপর আক্রমণ হয়েছে, চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় লালনকে জাতীয়ভাবে সেলিব্রেট (National Celebration) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা পরিষ্কার বহুত্বের পক্ষে সাংস্কৃতিকভাবে অবস্থান নিয়ে একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে তাঁরা তাঁদের সাথে আছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "৫৪ বছরে প্রথমবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঈদ, বৌদ্ধ পূর্ণিমা, দুর্গাপূজা সেলিব্রেট করেছি।"

৪. ড্রোন শো (Drone Show) আতঙ্ক ও নতুন স্বাভাবিকতা

সবচেয়ে তামাশাপূর্ণ সমালোচনা হিসেবে ফারুকী ড্রোন শোর প্রসঙ্গ টানেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, "বাউলরা আক্রান্ত হইছে? ড্রোন শো করতে বলো ফারুকীকে? আমেনার মা রিকশা থেকে পড়ে গেছে? ফারুকীকে বলো আরও ড্রোন শো করতে।"

তিনি বলেন, কতিপয় 'বিশুদ্ধবাদীর' কাছে ড্রোন শো হচ্ছে 'দ্য আননোন থিং' (The Unknown Thing) বা অজানা বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, মিডিয়া প্রতিদিন বিকশিত হচ্ছে এবং দুনিয়ার বেশিরভাগ বড় ইভেন্টে এখন ড্রোন শো যুক্ত হচ্ছে। ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের (FIFA World Cup) প্রচারণাসহ বড় বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে ড্রোন শো এখন 'নিউ নর্মাল' (New Normal)। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশেও তাই হয়েছে এবং আরও হবে।