ইউরোপিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (Champions League) মঙ্গলবার রাতে এক নতুন নক্ষত্রের অভ্যুদয় দেখল বিশ্ব। বার্সেলোনার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে চেলসির ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে সব আলো কেড়ে নিলেন ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন এস্তেভাও উইলিয়ান। অথচ ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল। ইউরো জয়ী এবং সদ্য ব্যালন ডি’অরে (Ballon d'Or) রানার্সআপ হওয়া ইয়ামালকে ছাপিয়ে এদিন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের নায়ক হয়ে উঠলেন এস্তেভাও।
যাদুকরী গোল এবং ইয়ামালের ম্লান উপস্থিতি
ম্যাচের চিত্রনাট্য যেন লেখা হয়েছিল দুই টিনএজারের দ্বৈরথ হিসেবে। কিন্তু মাঠের খেলায় এস্তেভাও ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। রিস জেমসের (Reece James) নিখুঁত পাস যখন এস্তেভাওয়ের পায়ে পৌঁছায়, তখন সামনে বার্সার রক্ষণ দুর্গ। অবিশ্বাস্য ড্রিবলিংয়ে দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে তিনি যে ‘বুলেট গতির’ শটটি নিলেন, তা বার্সার জালে জড়ালে গ্যালারিতে উৎসবের ঢেউ লাগে।
এই গোলের ঠিক পরেই ক্যামেরা খুঁজে নেয় লামিন ইয়ামালকে। দুজনেরই বয়স ১৮, কিন্তু এদিন মাঠের পারফরম্যান্সে যোজন যোজন এগিয়ে ছিলেন চেলসির এই উদীয়মান তারকা। গত দেড় বছর ধরে বিশ্বজুড়ে দ্যুতি ছড়ানো এবং দুটি লিগ শিরোপা জয়ী ইয়ামাল এদিন যেন নিজের ছায়া হয়েই রইলেন।
এমবাপ্পে ও হালান্ডদের পাশে ইতিহাসের পাতায় এস্তেভাও
বার্সেলোনার বিপক্ষে এই গোলটি কেবল দলের জয়ই নিশ্চিত করেনি, এস্তেভাওকে বসিয়ে দিয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো মহাতারকাদের পাশে। টিনএজার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের খেলা প্রথম টানা তিন ম্যাচে গোল করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এই তালিকায় তিনি ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার।
এর আগে আয়াক্স (Ajax) এবং কারাবাগের (Qarabag) বিপক্ষেও গোল করেছিলেন এস্তেভাও। তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে গোলটি তাকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। পরিসংখ্যান বলছে:
কিলিয়ান এমবাপ্পে: মোনাকোর হয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন ১৮ বছর ১১৩ দিন বয়সে (সর্বকনিষ্ঠ)।
এস্তেভাও উইলিয়ান: রেকর্ডটি স্পর্শ করলেন ১৮ বছর ২১৫ দিন বয়সে (দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ)।
আর্লিং হালান্ড: আরবি সালসবুর্গের হয়ে রেকর্ডটি করেছিলেন ১৯ বছর ১০৭ দিন বয়সে।
তুলনার চাপে সতর্ক কোচ মারেস্কা
ফুটবল বিশ্বে কোনো তরুণ প্রতিভা জ্বলে উঠলেই লিওনেল মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তুলনা করাটা একধরণের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে চেলসি কোচ এনজো মারেস্কা (Enzo Maresca) তার শিষ্যকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ (Pressure) থেকে দূরে রাখতে চান।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মারেস্কা বলেন, “সে এবং ইয়ামাল—দুজনেই খুব তরুণ, মাত্র ১৮ বছর বয়স। এখনই যদি ওদের নিয়ে মেসি ও রোনালদোর সঙ্গে তুলনা বা আলোচনা শুরু হয়, তবে তা ওদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এবং ক্যারিয়ারের জন্য বড় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ওদের এখন কেবল ফুটবলটা উপভোগ (Enjoy) করা উচিত।”
চেলসির এই জয় এবং এস্তেভাওয়ের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ইউরোপিয়ান ফুটবলে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে আগামীর সুপারস্টাররা এখনই নিজেদের জাত চেনাচ্ছেন।