• জাতীয়
  • ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের’ যে ব্যাখ্যা দিলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের’ যে ব্যাখ্যা দিলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের’ যে ব্যাখ্যা দিলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত

“এর মানে হচ্ছে, বৃহৎ সংখ্যায় রাজনৈতিক দল যেন অংশ নিতে পারে। আমি মনে করি, এটাই আমরা দেখি,” বলেন তিনি।

কোনো বাধা ছাড়াই সবার জন্য সুযোগ এবং বৃহৎ সংখ্যায় রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ হলে সেটা ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ হবে বলে মনে করছেন ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎজ।

গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ বলতে কী বুঝানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা বলছি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। আমার কাছে এর মানে হচ্ছে, জনগণের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ আর পুরুষ-নারী নির্বিশেষে কেউই সেই অংশগ্রহণে বাধাপ্রাপ্ত হবেন না। এটা প্রথম কথা।

“এর মানে হচ্ছে, বৃহৎ সংখ্যায় রাজনৈতিক দল যেন অংশ নিতে পারে। আমি মনে করি, এটাই আমরা দেখি।” নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ প্রচার এবং অধিক সংখ্যায় ভোটারদের উপস্থিতিকে বুঝানোর কথা তুলে ধরে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি দেখতে চাইব, নিজেদের মধ্যে সহিংসতা না করে রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছে।

“অধিক সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি। অধ্যাপক ইউনূস ৬০ শতাংশকে লক্ষ্য হিসেবে ধরেছেন বলে আমি শুনেছি। এটা একটা যৌক্তিক সংখ্যা। আমরা এখনও জানি না এবং সেটাকে প্রভাবিতও করতে পারব না, তবে আমি মনে করি, ভোটারদের অধিক সংখ্যার উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।”

ভোট গণনা সঠিক হওয়াটাও এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এমন একটা নির্বাচন প্রক্রিয়া হতে হবে, যাতে কাউকে ভীতি প্রদর্শন করা হবে না, মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারছে এবং সঠিকভাবে ভোট গণনা করা হচ্ছে, যেখানে দেশের বাইরে থাকা ভোটাদের অংশগ্রহণও দেখা যাচ্ছে। এমন একটা প্যাকেজ আমি দেখতে চাই।”

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দলটির নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর ৫ অগাস্ট পালিয়ে ভারতে চলে যান।

আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনায় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এক মামলা ফাঁসির দণ্ড হয়েছে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের।

এমনকি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনও করা হয়েছে। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

সরকারের ওই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে, ছয় মেয়াদে দুই যুগের বেশি সময় সরকারে থাকা দেশের অন্যতম প্রাচীন এ দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকেরা ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি-না, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।

আবার কার্যক্রম চালু থাকলেও আওয়ামী লীগের সমঝোতা করে বিগত তিন সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টিও নেই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায়।

দলীয় সরকারের অধীনে ওই তিন নির্বাচনের দুটিতে বিএনপি ও জামায়াত অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অধীনে তাদের অংশগ্রহণের ওই ভোটে ব্যাপক ‘কারচুপির’ ঘটনা ঘটে।

বিএনপি এবং জামায়াতের সঙ্গে ভোটের মাঠে নামছে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিএনপি-জামায়াতের জোটসঙ্গীদের পাশাপাশি ভোটের মাঠে আছে বামধারার কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

২০১৪ সালের পরের নির্বাচনগুলোতে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিরোধীদের দাবির মুখে আওয়ামী লীগ ‘দল নয়, বরং জনগণের অংশগ্রহণের’ কথা বলত। এবার একই রকমের কথা বলছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা এবং পশ্চিমা কূটনীতিকরা।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এক দিনে একসঙ্গে আয়োজনের স্দ্ধিান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে, তাদের লক্ষ্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করা।

আগামী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি হলেই জার্মানি ‘খুশী’ হবে কিনা, এমন প্রশ্নে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, “ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে আমি সম্ভবত বড় সংখ্যা ধরে ফেলেছি। তবে, ভোটার উপস্থিত দেশভেদে ভিন্ন হয়, অনেক পশ্চিমা দেশে এটা ৫০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে থাকে।

“এবং সেটা নির্বাচনের বৈধতাকে প্রশ্ববিদ্ধ করে না। আমি মনে করি, অধিক সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি শ্রেয় এবং এই লক্ষ্যটা এটা বড় সংখ্যাই নির্দেশ করছে। আমরা যদি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারি, ৬০ শতাংশে পৌঁছতে পারি, সেটা একটা ভালো কাজ হবে। এবং আমার বিবেচনায় সেটা ভালো ভোটার উপস্থিতিই হবে বলেই আমি মনে করি।”

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে চলা বর্তমান সরকারের কার্যক্রমকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন দেওয়ার কথা তুলে ধরে রুডিগার লোৎজ বলেন, “ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে পুরো প্রক্রিয়াকে আমরা সমর্থন পূর্ণ সমর্থন জানাই। “ইউরোপীয় অংশীদারদের পাশাপাশি আমরাও একমত যে, এই দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজন। আমাদের মনে হয়, সেটা অর্জনে বাংলাদেশ ভালো অবস্থায়ই আছে।”

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক নির্বাচন পাবেন আপনারা। যেখানে ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার, যার মধ্যে একটা বড় সংখ্যা তরুণরা। এ কারণে এর গুরুত্ব বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বাইরে যাওয়ার মতো। “একটা দেশ স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে, এটার প্রভাব পুরো এশিয়ার ওপর রয়েছে। এবং শুধু এশিয়া নয়, আদতে পুরো বিশ্বে।”

Tags: জার্মান রাষ্ট্রদূত