• জাতীয়
  • শেখ হাসিনা ও জয়-পুতুলের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির মামলার রায় আজ

শেখ হাসিনা ও জয়-পুতুলের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির মামলার রায় আজ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
শেখ হাসিনা ও জয়-পুতুলের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির মামলার রায় আজ

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ১০ কাঠা করে প্লট নিয়েছেন।

তবে গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতের পর শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের প্লট নেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে ধরা পড়ে, শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্যে এসব প্লট বরাদ্দ নেন। এ ঘটনায় শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক।

এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। এতে দোষী সাব্যস্ত হলে এই তিনজনের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

এ বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ আজকের আওয়াজকে বলেন, ‘সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে সবকিছু তুলে ধরা হয়েছে।

ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে বলে আশা করছি।’ আদালত ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই সন্তানের বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আসামি শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের মামলায় ২৯ জন, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জনের মামলায় ৩২ জন এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জনের মামলায় ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

শেখ হাসিনার পরিবার ছাড়া এসব মামলার অন্য আসামিরা হলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

তাঁদের মধ্যে একমাত্র আসামি খুরশীদ আলম কারাগারে আটক রয়েছেন। গত ১৭ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে এক আসামি খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি। পরে গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন।

মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ তদন্তে প্রাপ্ত আরো চারজনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। পরে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। মামলাটি তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

Tags: শেখ হাসিনা পুতুল মামলা জালিয়াতি প্লট জয়