বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানের (Salman Khan) মুম্বাইয়ের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের (Galaxy Apartment) সামনে গুলিবর্ষণ (Shooting Incident) মামলায় অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের তদন্তাধীন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিশেষ আদালত পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন (Charge Framed) করেছে।
ইয়নের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিচারক মহেশ জাধব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযুক্তরা সকলেই আদালতের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। চার্জ গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষে, শিগগিরই মামলার বিচারিক কার্যক্রম (Trial) শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযুক্তরা
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভোরে দুই মোটরবাইক আরোহী সালমান খানের বান্দ্রার বাড়ি গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। অভিনেতার প্রথম তলার ব্যক্তিগত বারান্দাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল, যা শহরজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ (Security Concerns) তৈরি করে।
যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে, তাঁরা হলেন:
ভিকিকুমার গুপ্তা
সাগরকুমার পাল
সোনুকুমার বিশ্নোই
রফিক সরদার চৌধারি
হারপাল সিংহ
ভিকি ও সাগরকে মোটরবাইক থেকে গুলি চালানোর দুই প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকিরা অভিনেতার বাড়ির রেকি করা, ভিডিও করা এবং সেই তথ্য শুটারদের কাছে পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
অপরাধচক্র ও মূল পরিকল্পনাকারী
এই মামলার চার্জশিটে (Charge Sheet) উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তার ও পলাতক সকল অভিযুক্ত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই (Lawrence Bishnoi)-এর নেতৃত্বাধীন সংগঠিত অপরাধচক্রের (Organized Crime Syndicate) সদস্য।
উদ্দেশ্য: চার্জশিটে বলা হয়েছে, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সালমান খানকে হত্যার পরিকল্পনা (Murder Plot) বাস্তবায়ন করা এবং মুম্বাইবাসীর মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজেদের দাপট প্রতিষ্ঠা করা।
পলাতক অভিযুক্ত: গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই, তাঁর ভাই অমোল বিশ্নোই এবং রবতারাম স্বামী এই মামলায় পলাতক অভিযুক্ত (Absconding Accused) হিসেবে তালিকাভুক্ত।
বর্তমান অবস্থা: লরেন্স বিশ্নোই বর্তমানে গুজরাটের সাবরমতি জেলে বন্দি। তাঁর ভাই অমোলকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতে ফেরত আনা হয়েছে এবং তিনি এখন এনআইএ'র (NIA) হেফাজতে আছেন।
উল্লেখ্য, আরেক অভিযুক্ত অনুজকুমার থাপান পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং পরে মে ২০২৪-এ হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনা মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। Judicial Process শুরু হওয়ায় এখন মামলাটির গতি দ্রুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।