• দেশজুড়ে
  • নারায়ণগঞ্জে ‘বিদ্রোহে অস্থির’ বিএনপি

নারায়ণগঞ্জে ‘বিদ্রোহে অস্থির’ বিএনপি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নারায়ণগঞ্জে ‘বিদ্রোহে অস্থির’ বিএনপি

“বিএনপি একটি বড় দল। ফলে মতপার্থক্য থাকবে স্বাভাবিক কিন্তু দিনশেষে সবাই দল ও দেশের স্বার্থেই কাজ করবেন।”

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়েছে।

এরপর ৪ ডিসেম্বর মির্জা ফখরুল আরও ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। তখনও শিল্প অধ্যুষিত ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী দেয়নি দল।

এই আসনটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জোটের শরিক দলের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। এবারও শরিকদের ছাড় দেওয়া হবে কি না, তা খোলাসা হয়নি এখনও। আসনটিতে বিএনপির কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রের নজর কাড়তে ব্যস্ত। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলছেন, “বিএনপি একটি বড় দল। ফলে মতপার্থক্য থাকবে স্বাভাবিক, কিন্তু দিনশেষে সবাই দল ও দেশের স্বার্থেই কাজ করবেন।”

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করলেও তাদের ঘিরে ঐক্যবদ্ধ কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে না। সব আসনেই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছেন মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা, তাদের কর্মী-সমর্থকরাও সরব।

ধানের শীষের প্রার্থী ‘বিদ্রোহীদের’ প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানালেও সাড়া মিলছে না তাদের। এমনকি কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ারও আভাস দিচ্ছেন। ফলে ‘অস্বস্তিতে’ পড়েছেন প্রার্থীরা। ৩ নভেম্বর স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সারাদেশে ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নারায়ণগঞ্জ-৫ সদর ও বন্দর এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়েছেন দলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা।

এ আসনে শুরু থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলের অন্তত ১০ নেতা। তাদের মধ্যে মাসুদুজ্জামান ছাড়াও আলোচনায় ছিলেন তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল ও শিক্ষক আলিয়ার হোসেন।

ফলে যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তারা প্রকাশ্য কর্মসূচিতে ধানের শীষ প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রচার চালান। তাদের ভাষ্য, মাসুদুজ্জামান বিএনপির ‘কেউ নন’, তিনি সুসময়ে এসে বিএনপির মনোনয়ন ‘বাগিয়ে’ নিয়েছেন। মনোনয়ন না পাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, “আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছি। আগামী নির্বাচন হবে অনেক কঠিন।

“বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৃণমূলসহ অনেকেই নির্যাতিত। তৃণমূলকে মূল্যায়ন করা না হলে রাজনীতি কঠিন পর্যায়ে চলে যাবে। পরীক্ষিত প্রার্থী না হলে এখানে জয় পাওয়াটা কষ্টকর।” তবে মনোনয়ন না পাওয়া দলীয় অন্য নেতারাও দিনশেষে দলের স্বার্থে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন বলে বিশ্বাস মাসুদুজ্জামানের।

তিনি বলেন, “বিগত সময়ে আমি দল ও দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে সবসময় ছিলাম। এমনকি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বিনাস্বার্থে আমি কাজ করেছি। আমার বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় দল আমার উপর আস্থা রেখেছে।” “মনোনয়ন মাঠপর্যায়ে জরিপ ও কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং দলের সিদ্ধান্তকে সবাই মেনে নেবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি। আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই।”

এদিকে, বিগত সময়ে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া কয়েকজন নেতাকে পুনরায় দলে নিয়েছে বিএনপি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, দলীয় প্রার্থীর সুবিধার হবে বিবেচনায় এই নেতাদের আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল অন্যতম। আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের কারণে জটিলতায় তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তাবে সোনারগাঁয়ের সঙ্গে বন্দর উপজেলা যুক্ত করার বিষয়টি থাকলেও বন্দরবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল করা হয়। শেষে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার ১০টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হয়।

এ কারণে সোনারগাঁর পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতারাও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সামনে আসেন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল।

তাদের মধ্যে দল বেছে নেয় আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ২০১৮ সালের মনোনীত প্রার্থী মান্নানকে প্রার্থী ঘোষণা করায় বাদ পড়া সাত নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তার বিরুদ্ধে একজোট হন। তারা ১৯ নভেম্বর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিতভাবে মনোনয়ন বাতিলের দাবিও জানান। চিঠিতে বলা হয়, মান্নানকে নিয়ে নির্বাচন করলে জয় ‘সম্ভব নয়’ এবং তার ‘শিক্ষাগত যোগ্যতাও নেই’।

মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের কর্মকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্র ছিল, আছে, চলবে। কিন্তু আমরা প্রচার থামাইনি এবং থামাব না। তৃণমূলেও ধানের শীষ প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।” এদিকে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে জোট বাঁধায় সে সব ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে। মনোনয়ন নিায়ে দ্বন্দ্ব বিএনপির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করলেও প্রার্থীর প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

Tags: নারায়ণগঞ্জ বিএনপি