বলিউডের ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে একসময় যাদের উদাহরণ টানা হতো, সেই ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনের সম্পর্ক নিয়ে গত এক বছর ধরে মিডিয়াপাড়ায় জল্পনার শেষ নেই। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া—সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বচ্চন পরিবারের ফাটল। বি-টাউনের বাতাসে ভাসছিল তাদের বিচ্ছেদের খবর। অবশেষে সেই ‘বিচ্ছেদ গুঞ্জন’ (Divorce Rumors) নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভাঙলেন অভিষেক বচ্চন। একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে তিনি সোজাসাপ্টা জানালেন তাদের দাম্পত্য জীবনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা।
‘ফেইক নিউজ’ ও তারকা জীবনের বিড়ম্বনা
গুঞ্জনকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিষেক। পডকাস্টে তিনি বলেন, “আপনি যখন একজন পাবলিক ফিগার বা সেলিব্রিটি, তখন মানুষ আপনাকে নিয়ে গল্প তৈরি করবেই—এটা আমাদের জীবনেরই অংশ। কিন্তু গত এক বছরে যা লেখা হয়েছে, তার পুরোটাই সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিদ্বেষপূর্ণ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মিডিয়া একটা সময় ঠিক করত কবে আমাদের বিয়ে হবে, আর বিয়ের পর এখন ঠিক করছে কবে আমাদের ডিভোর্স হবে! এসবই বাজে কথা। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সে (ঐশ্বরিয়া) আমার সত্য জানে, আর আমি তার সত্য জানি। আমরা দিনশেষে একটি সুখী ও সুস্থ পরিবারেই ফিরে যাই। যদি এসব রটনার মধ্যে বিন্দুবিসর্গ সত্যতা থাকত, তবে আমার খারাপ লাগত। কিন্তু যেহেতু ভিত্তি নেই, তাই আমি এসব গায়ে মাখি না।”
মিডিয়ার দায়িত্ববোধ ও ‘ফ্যামিলি’ প্রটেকশন
সাংবাদিকতা এবং মিডিয়ার বর্তমান ভূমিকা নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন জুনিয়র বচ্চন। তিনি বলেন, “আমাকে ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়েছে মিডিয়া হলো দেশের বিবেক। কিন্তু এখন খবরের নামে যা হচ্ছে, তাতে দায়িত্ববোধের বালাই নেই। মনে রাখা জরুরি—আপনি যার সম্পর্কে লিখছেন, তিনি কারও সন্তান, কারও জীবনসঙ্গী বা কারও বাবা-মা।”
অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাকে নিয়ে যা খুশি বলতে পারেন, আমি সহ্য করব। কিন্তু আমার পরিবারকে নিয়ে কোনো মিথ্যা বা বানোয়াট কথা বললে তার জবাব আমি দেব। আমার পরিবারের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আমি বরদাশত করব না। এখানেই ফুলস্টপ।”
আরাধ্যা ও ডিজিটাল যুগের প্যারেন্টিং
১৪ বছর বয়সী মেয়ে আরাধ্য বচ্চন কীভাবে এই সব গুঞ্জন সামলায়, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্ত্রী ঐশ্বরিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন অভিষেক। তিনি জানান, ঐশ্বরিয়া আরাধ্যাকে দারুণভাবে বড় করছেন এবং তাকে যথেষ্ট ‘ম্যাচিউর’ করে তুলেছেন।
অভিষেক বলেন, “আরাধ্য জানে তার চারপাশে কী হচ্ছে, তবে এসব গসিপ তার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে এখনই পার্সোনাল স্মার্টফোন দেব না। তার বন্ধুরা প্রয়োজনে ঐশ্বরিয়ার ফোনেই যোগাযোগ করে। সে তার স্কুল এবং পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “ঐশ্বরিয়া তাকে শিখিয়েছে যে, যা কিছু প্রিন্ট হয় বা অনলাইনে দেখা যায়, তার সবটা বিশ্বাস করতে নেই। আমাদের পরিবারে আমরা সবাই একে অপরের প্রতি সৎ। তাই বাইরের কোনো কথায় আমাদের ঘরের শান্তি নষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”