রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে বিশ্ব অচিরেই ‘Third World War’ বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার সাক্ষী হতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের তীব্রতা এবং ভয়াবহ প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। চলমান ‘Geopolitical Tension’ (ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা) প্রশমনে তার প্রশাসন কঠোর পরিশ্রম করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘ম্যাস কিলিং’ ও ট্রাম্পের হতাশা
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের ভয়াবহতা বোঝাতে একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, “গত এক মাসেই রাশিয়া-ইউক্রেন রণাঙ্গনে অন্তত ২৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।” এই বিপুল পরিমাণ প্রাণহানিকে তিনি ‘Mass Casualty’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমি এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বা ‘Senseless Killing’ বন্ধ দেখতে চাই। এক মাসে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ইতিহাসের শিক্ষা হলো, এ ধরনের সংঘাত শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নেয়। আমি আগেও বলেছি, বিশ্বনেতারা যদি এই ‘War Game’-এ মগ্ন থাকেন, তবে মহাবিপদ আসন্ন। আমরা এটা বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।”
শান্তি প্রস্তাব: ২৮ দফা থেকে ২০ দফার নতুন কাঠামো
সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘Peace Treaty’ (শান্তি চুক্তি)-র বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
এর আগে গত নভেম্বরে ওয়াশিংটন ২৮ দফার একটি খসড়া শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ করেছিল। তবে সেই প্রস্তাবে রাশিয়ার প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে তা সমালোচিত হয়। সেই সমালোচনার মুখে প্রস্তাবটি সংশোধন করে এখন ২০ দফার একটি সংক্ষিপ্ত ‘Framework’ (কাঠামো) তৈরি করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই সংশোধিত প্রস্তাবে মূল চুক্তির পাশাপাশি পৃথক নথিতে ইউক্রেনের জন্য ‘Security Guarantee’ (নিরাপত্তা নিশ্চয়তা) এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পুনর্গঠন বা ‘Post-war Reconstruction’-এর বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে সম্মানজনক একটি সমঝোতায় আনার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ‘অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ’ আলোচনা
বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ‘Disarmament’ বা অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি জানান, এই ইস্যুতে তিনি পরাশক্তি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “চীনের সঙ্গে আমার আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ। আমি বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গেও কথা বলেছি।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি কমাতেও তার প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর একটি ইঙ্গিত হতে পারে। তবে শান্তি প্রস্তাবটি কিয়েভ এবং মস্কো—উভয় পক্ষ কতটা গ্রহণ করবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বিশ্ব পরিস্থিতির গতিপথ।