পায়ের জাদুতে বিশ্বজয় করেছেন অনেক আগেই। এবার ভারতের মাটিতে পা রেখে এক অন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকলেন লিওনেল মেসি। মুম্বইয়ের বুকে ফুটবল ঈশ্বরের হাতে উঠল সনাতন ভারতের আধ্যাত্মিক প্রতীক— পবিত্র ‘শ্রীমদ্ভাগবতগীতা’। ১৪ বছর পর ভারতে এসে মেসি শুধু যে ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদস্পন্দন বাড়ালেন তাই নয়, নিজেকে ভাসিয়ে দিলেন ভারতীয় সংস্কৃতির এক অনন্য আধ্যাত্মিক স্রোতে।
মেসির হাতে স্প্যানিশ ‘গীতা’
২০২৫ সালের বহুচর্চিত ‘GOAT India Tour’-এর অংশ হিসেবে মুম্বই সফরে ছিলেন আর্জেন্তিনীয় অধিনায়ক। সেখানেই এক বিশেষ সাক্ষাতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ‘ISKCON’-এর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মান জানানো হয়। ইসকনের গভর্নিং বডি কমিশন (GBC)-এর অন্যতম সদস্য গুরু প্রসাদ স্বামী মহারাজ মেসির সঙ্গে দেখা করেন।
তবে এই উপহারের বিশেষত্ব ছিল অন্যত্র। ভাষাগত ব্যবধান যাতে বাধার সৃষ্টি না করে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছিল। মেসিকে তাঁর মাতৃভাষা স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত ‘ভগবদ্গীতা যথাযথ’ (Bhagavad Gita As It Is) প্রদান করা হয়। উপহার গ্রহণ করার সময় গুরু প্রসাদ স্বামী মহারাজ এবং লিওনেল মেসির মধ্যে স্প্যানিশ ভাষাতেই বেশ কিছুক্ষণ কথোপকথন চলে। সূত্রের খবর, তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে ভক্তি ঐতিহ্য বা ‘Devotional Tradition’-এর নানা দিক। বিশ্ববন্দিত তারকার এই নম্রতা এবং ভারতীয় দর্শনের প্রতি আগ্রহ মুগ্ধ করেছে উপস্থিত সকলকে।
দুই ‘ঈশ্বরের’ মহামিলন
মুম্বই সফরটি মেসির জন্য কেবল আধ্যাত্মিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল দুই ক্রীড়া-সাম্রাজ্যের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকে এক বিরল দৃশ্যের। যেখানে মুখোমুখি হন ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকর এবং ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি।
এই ‘Iconic Meeting’-এ দুই মহাতারকা একে অপরের সঙ্গে জার্সি এবং বল বিনিময় করেন। ভারতীয় ক্রীড়ামহলে যা ইতিমধ্যেই ‘Picture of the Year’-এর তকমা পেয়েছে। কলকাতা, হায়দ্রাবাদ এবং দিল্লির পর মুম্বইয়ের এই ইভেন্ট বুঝিয়ে দিল, মেসির এই ভারত সফর কেবল একটি কমার্শিয়াল ট্যুর নয়, বরং এটি একটি ‘Cultural Phenomenon’।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন মেসি। ২০১১ সালে শেষবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলে গিয়েছিলেন তিনি। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে এই সফরে মেসি ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গেও সময় কাটিয়েছেন। তবে মাঠের উত্তেজনা আর গ্ল্যামারের ভিড়ে, ইসকনের পক্ষ থেকে গীতা উপহার পাওয়ার এই শান্ত, সমাহিত মুহূর্তটি নিঃসন্দেহে তাঁর সফরের অন্যতম সেরা ‘Highlight’ হয়ে রইল।