ফুটবল বিশ্বের অভিভাবক সংস্থা ফিফা (FIFA) অবশেষে সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলো। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য এবং বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তাল ছিল ফুটবল দুনিয়া। ফিফার বিরুদ্ধে উঠেছিল ‘প্রতারণা’ ও ‘ধোঁকাবাজি’র মতো গুরুতর অভিযোগ। অবশেষে নিজেদের ভাবমূর্তি বা Brand Image রক্ষায় বড়সড় ছাড়ের ঘোষণা দিল সংস্থাটি। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আসন্ন বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ, এমনকি ফাইনালও দেখা যাবে মাত্র ৬০ ডলারে!
৬০ ডলারে ফাইনাল? অবিশ্বাস্য সুযোগ
সমালোচনার ঝড় সামলাতে ফিফা একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং সাশ্রয়ী টিকিটিং প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাপোর্টার এন্ট্রি টায়ার’ (Supporter Entry Tier)। এই বিশেষ ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট বরাদ্দ থাকবে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৬০ মার্কিন ডলার।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, আসরের হাই-ভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচসহ মোট ১০৪টি ম্যাচের জন্যই এই স্বল্পমূল্যের টিকিট প্রযোজ্য হবে। তবে ফিফা জানিয়েছে, প্রতিটি ম্যাচে এই সস্তা টিকিটের সংখ্যা বা Quantity হবে সীমিত। মূলত সাধারণ দর্শকদের ক্ষোভ প্রশমন এবং স্টেডিয়ামমুখী করতেই এই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ পলিসি নিয়েছে সংস্থাটি।
৪৮ দলের মহাযজ্ঞ ও বিতর্কের সূত্রপাত
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ আসর হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয়। আগামী বছরের জুনে শুরু হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্ট (Mega Event) ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে।
কিন্তু এই উন্মাদনায় জল ঢেলে দিয়েছিল ফিফার প্রাথমিক টিকিট পলিসি। নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে তাদের ম্যাচের মোট টিকিটের ৮ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছিল ফিফা। কিন্তু গোলমাল বাঁধে সেই টিকিটের চড়া দাম নিয়ে। অভিযোগ ওঠে, ফিফা প্রথমে যে মূল্যের কথা ঘোষণা করেছিল, টিকিট বিক্রির সময় তার চেয়ে অনেক বেশি দাম বা Hidden Cost দাবি করা হচ্ছে।
কেন ‘প্রতারক’ বলা হলো ফিফাকে?
টিকিট ছাড়ার পরপরই দেখা যায়, ঘোষিত মূল্যের সঙ্গে বাস্তব মূল্যের আকাশ-পাতাল তফাত। সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে যায় টিকিটের দাম। এরপরই বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের বিভিন্ন সংগঠন বা Fan Base ফুঁসে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ফোরামে ফিফাকে সরাসরি ‘ধোঁকাবাজ’ (Scammer) বলে অভিহিত করা হয়। সমর্থকদের দাবি ছিল, ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ব্যবসার নামে সাধারণ দর্শকদের আবেগের সঙ্গে খেলা করছে।
টানা কয়েকদিনের এই ‘ব্য়াকল্যাশ’ (Backlash) এবং তোপের মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় ফিফা। মূলত সমর্থকদের শান্ত করতে এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ইনক্লুসিভিটি’ বজায় রাখতেই এই ৬০ ডলারের টিকিট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।