রণবীরের কেরিয়ারে নতুন অধ্যায়
আদিত্য ধর পরিচালিত 'ধুরন্ধর' নিঃসন্দেহে রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারের মন্দা অধ্যায়ের ইতি টানল। স্বল্প সময়ের মধ্যেই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ৫০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই ধারাবাহিক সাফল্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে, মেগাবাজেটের দক্ষিণী মহাকাব্য 'বাহুবলী'-কে টপকে হাজার কোটির ক্লাবে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে রণবীর সিং ও অক্ষয় খান্না অভিনীত এই ছবিটি।
বক্স অফিসে 'ধুরন্ধর' ঝড়
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে বক্স অফিসে 'ধুরন্ধর'-এর ঝড় থামার কোনো লক্ষণ নেই। আইনি জটিলতা ও নানা বিতর্ক সত্ত্বেও গত ৫ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটি। মুক্তির মাত্র তেরো দিনের মাথায়ই এটি দেশ-বিদেশের দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
চলতি বছরের বক্স অফিস পরিসংখ্যানেও ছবিটি রীতিমতো এগিয়ে। আল্লু অর্জুনের 'পুষ্পা', শাহরুখ খানের 'ডাঙ্কি' কিংবা হৃতিক রোশনের 'ওয়ার'—সব ক'টিকেই পিছনে ফেলে এবার এসএস রাজামৌলি পরিচালিত 'বাহুবলী: দ্য বিগিনিং'-এর রেকর্ড ভাঙার পথে 'ধুরন্ধর'। যেখানে 'বাহুবলী' জাতীয়স্তরে ৪২১ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল, সেখানে 'ধুরন্ধর' মাত্র ১৩ দিনেই সেই মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
আয় ৬৭৪ কোটি টাকা
বক্স অফিস রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত ভারতে ছবিটির আয় ৪৩৭.২৫ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাপী ব্যবসা দাঁড়িয়েছে ৬৭৪.৫০ কোটি টাকায়। দক্ষিণী সিনে-ইন্ডাস্ট্রির রমরমা বাজারে বলিউডের পক্ষ থেকে যে এটি এক শক্ত জবাব, তা বলাই বাহুল্য। প্রথম সপ্তাহে ভারতে ২০৭.২৫ কোটি টাকার ব্যবসার পর দ্বিতীয় সপ্তাহেও জয়যাত্রা থামেনি—এই সময়ে আরও ২৩০ কোটি টাকা যোগ করেছে 'ধুরন্ধর'। সব মিলিয়ে জাতীয়স্তরে প্রায় ৪৩৮ কোটি টাকার ব্যবসা করে ২০২৫ সালের বক্স অফিসে ইতিহাস গড়েছে ছবিটি।
রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে 'ধুরন্ধর'
বর্তমানে প্রথম সারির ভারতীয় সিনেমার তালিকায় 'অ্যানিম্যাল'-এর পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে 'ধুরন্ধর' (স্যাকনিল্ক রিপোর্ট অনুযায়ী)। ২০২৩ সালে রণবীর কাপুর অভিনীত 'অ্যানিম্যাল' মোট ৯১৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। এই গতি বজায় থাকলে হাজার কোটির ক্লাবে প্রবেশ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এখন প্রশ্ন, ২০২৫ সালে রণবীর সিংয়ের 'ধুরন্ধর' কি ২০২৩ সালের 'অ্যানিম্যাল'-এর সেই রেকর্ডও ভেঙে দেবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা ইন্ডাস্ট্রি।