আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) জন্য ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। তবে এই দল ঘোষণায় যে বড়সড় চমক অপেক্ষা করছিল, তা হয়তো অতিবড় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞও আঁচ করতে পারেননি। ওয়ানডে ও টেস্ট ফরম্যাটে ভারতের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত শুভমান গিলকে ছেঁটে ফেলে নির্বাচকরা স্পষ্ট বার্তা দিলেন—টি-২০ ক্রিকেটে বর্তমান ফর্মই শেষ কথা। গিলের পাশাপাশি কপাল পুড়েছে উইকেটরক্ষক ব্যাটার জিতেশ শর্মারও। অন্যদিকে, শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত কারণে নির্বাসন কাটিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের বাঁ-হাতি ব্যাটার ইশান কিশান।
শুভমান গিলের বিদায় ও কিশানের ‘রিলেন্টলেস’ প্রত্যাবর্তন
গত ১৮টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে একটিও অর্ধশতক করতে না পারা শুভমান গিলের ওপর আর আস্থা রাখতে পারেনি বোর্ড। তাঁর জায়গায় দলে জায়গা করে নিয়েছেন ইশান কিশান, যিনি সম্প্রতি সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে (SMAT) অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় দলের রাডারের বাইরে থাকা কিশান ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝাড়খণ্ডের হয়ে ৫১৭ রান তুলে নির্বাচকদের বাধ্য করেছেন তাঁকে দলে ফেরাতে।
বিশেষ করে হরিয়ানার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের ফাইনালে তাঁর ৪৯ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি ছিল দেখার মতো। ৬টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংসের সৌজন্যে ঝাড়খণ্ড ২৬২ রানের পাহাড় গড়েছিল, যা যেকোনো টি-২০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ১৯০-এর বেশি ‘Strike Rate’ বজায় রেখে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া কিশানকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন ম্যানেজমেন্টের ছিল না।
নেতৃত্বে সূর্যকুমার, ভরসা অভিজ্ঞতায়
দলের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে সূর্যকুমার যাদবকেই। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাঁর ব্যক্তিগত ফর্ম কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবুও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাঁর ‘X-Factor’ এবং আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। সহ-অধিনায়ক হিসেবে অক্ষর প্যাটেলের ওপর বড় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভম দুবের অন্তর্ভুক্তি দলের ভারসাম্য বজায় রেখেছে। ফিনিশার হিসেবে জিতেশ শর্মার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন রিঙ্কু সিং, যার ব্যাটিং সামর্থ্য বর্তমান বিশ্বের যেকোনো বোলিং আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
বোলিং লাইনআপে চমক ও তারুণ্য
ভারতের বোলিং বিভাগে নেতৃত্ব দেবেন জাসপ্রিত বুমরাহ। তাঁর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন আর্শদীপ সিং এবং নতুন সেনসেশন হার্ষিত রানা। স্পিন বিভাগে কুলদীপ যাদবের সাথে বরুণ চক্রবর্তী ও ওয়াশিংটন সুন্দরের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে যে, ভারত এবার বৈচিত্র্যময় স্পিন আক্রমণের দিকেই ঝুঁকছে।
বিশ্বকাপের পথ ও গ্রুপ বিন্যাস
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ২০ দলের এই মেগা টুর্নামেন্ট। ভারত রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে, যেখানে তাদের গ্রুপসঙ্গী চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ছাড়াও রয়েছে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। ৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বজয়ের অভিযান শুরু করবে সূর্যকুমার বাহিনী। ৮ মার্চ ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই টুর্নামেন্টের।
একনজরে ভারতের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দল:
সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, স্যাঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), তিলক বার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিভম দুবে, অক্ষর প্যাটেল (সহ-অধিনায়ক), রিঙ্কু সিং, জাসপ্রিত বুমরাহ, হার্ষিত রানা, আর্শদীপ সিং, কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, ওয়াশিংটন সুন্দর ও ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক)।