• দেশজুড়ে
  • দিপু হত্যায় ৪ আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি: মোট গ্রেপ্তার ১৮, রিমান্ডে আরও ৬

দিপু হত্যায় ৪ আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি: মোট গ্রেপ্তার ১৮, রিমান্ডে আরও ৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে তথ্য প্রকাশ না করলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে, আসামিরা নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দিপু হত্যায় ৪ আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি: মোট গ্রেপ্তার ১৮, রিমান্ডে আরও ৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার মামলায় চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার তমার আদালতে তারা এই জবানবন্দি দেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকারী আসামিদের পরিচয়

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলেন—তারেক হোসেন (১৯), মানিক মিয়া (২০), নিজামুল হক (২০) ও আজমল ছগীর (২৬)। তারা সকলেই ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার শ্রমিক।

ময়মনসিংহ আদালত পুলিশের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান কালবেলাকে জানান, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত এবং মামলার অবস্থা

গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে প্রথমে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়ক বিভাজকের একটি গাছে বিবস্ত্র অবস্থায় ঝুলিয়ে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত দিপু চন্দ্র দাস তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। এই নৃশংস ঘটনায় দিপুর ভাই অপু চন্দ্র দাস গত শুক্রবার অজ্ঞাত পরিচয়ে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া

ঘটনার পর থেকে চালানো অভিযানে র‍্যাব সাতজন এবং পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ২২ ডিসেম্বর আদালত গ্রেপ্তারকৃতদের প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে পরিকল্পিত মনে হলেও এটি তাৎক্ষণিক ঘটে যায়। আসামিরা নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকারের পাশাপাশি সরাসরি ঘটনায় জড়িত আরও কিছু ব্যক্তির নাম জানিয়েছেন।

আরও ৬ জন গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডের আবেদন

এদিকে দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় বুধবার রাতে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই নিয়ে মামলায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

অন্যদিকে, পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ আলমগীর হোসেন (৩৮) ও কোয়ালিটি ইনচার্জ মিরাজ হোসেনকে (৪৬) শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাদের তিন দিনের রিমান্ডের সময় আগামীকাল দুপুর ১২টায় শেষ হবে। রিমান্ডে থাকা বাকি ছয় আসামিকে আগামীকাল পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হবে বলেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

Tags: crime mymensingh confession court garment worker dipu murder