**** মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি****
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দেওয়া মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে বিষপান (Suicide Attempt) করেছেন এক ভাইবোন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বোন তামান্না আক্তার তুলি (২৫) মারা গেছেন। অন্যদিকে, তার আপন বড় ভাই আনারুল ইসলাম আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চর গয়টাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পটভূমি: পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ
নিহত তামান্না আক্তার তুলির স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি তার জন্মদাতা বাবা সাইদার হোসেনের বাড়িতে চলে এসেছিলেন। এই পারিবারিক সমস্যার জেরেই ঘটনার সূত্রপাত।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, তামান্না আক্তার তুলির স্বামী রাশেদুল ইসলাম এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে আপন বড় ভাই আনারুল ইসলামের সঙ্গে তামান্নার পরকীয়ার (Extramarital Affair) মিথ্যা অভিযোগ তোলেন।
অপমান ও চরম সিদ্ধান্ত: বিষপান
এই মিথ্যা অপবাদ এবং সামাজিক চাপ সইতে না পেরেই ভাই-বোন দুজনেই বিষপানের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেন। বিষপান করা অবস্থায় তাদের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বোন তামান্না আক্তার তুলিকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার ভাই আনারুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
নিহতের বড় বোন শাহিনা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আমার ভাই ও বোনের নামে তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিথ্যা অপবাদ দেওয়ায় তারা বিষপান করেছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।"
আইনি পদক্ষেপ: থানায় অভিযোগ দায়ের
নিহত তামান্নার মা সুফিয়া আক্তার এই ঘটনার জন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দায়ী করে রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ (Formal Complaint) দায়ের করেছেন। রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী জানান, নিহতের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া (Legal Process) চলমান রয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করা হবে।