অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী বিগ ব্যাশ লিগে (BBL) নিজের অভিষেক মৌসুমেই বল হাতে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশের লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্সের জার্সিতে প্রতিটি ম্যাচেই তিনি হয়ে উঠছেন অধিনায়কের আস্থার প্রতীক। শুক্রবার পার্থ স্টেডিয়ামে পার্থ স্কোরচার্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক স্পেলে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে চলতি মৌসুমে নিজের দলের সফলতম বোলারে পরিণত হয়েছেন এই তরুণ তুর্কি।
পার্থের ব্যাটিং লাইনআপে রিশাদের হানা পার্থ স্কোরচার্সের শক্তিশালী ব্যাটিং অর্ডারের বিপক্ষে আজ বল হাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন রিশাদ হোসেন। তার ঘূর্ণি জাদুতে একে একে পরাস্ত হন কুপার কনোলি, অ্যারন হার্ডি ও লরি ইভান্স। বিশেষ করে ইনফর্ম ব্যাটার কনোলিকে ব্যক্তিগত মাত্র ৬ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে পার্থের শুরুর ধাক্কাটা দেন রিশাদই। এরপর অ্যারন হার্ডিকে ৯ রানে মিচেল ওয়েনের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল লরি ইভান্সের উইকেটটি। ১৭ বলে ২৭ রান করে ইভান্স যখন বিধ্বংসী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই রিশাদের বুদ্ধিমত্তার কাছে পরাস্ত হয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। ৪ ওভারে ৩৩ রান খরচ করলেও গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ব্রেক-থ্রু এনে দিয়ে পার্থকে ৮ উইকেটে ১৫০ রানে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন রিশাদ।
পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে সতীর্থদের পেছনে ফেললেন রিশাদ চলতি বিপিএল বা অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মতো বিগ ব্যাশেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন এই লেগি। ৩ ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে আজ মাঠে নেমেছিলেন তিনি, আর ম্যাচ শেষে তার নামের পাশে এখন ৬ উইকেট। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে অভিজ্ঞ পেসার ক্রিস জর্ডানও ৬টি উইকেট নিয়েছেন, কিন্তু ইকোনমি (Economy) এবং বোলিং গড় (Bowling Average)-এর বিচারে জর্ডানকে টপকে দলের ১ নম্বর বোলার এখন রিশাদ।
রিশাদ হোসেন প্রতি ১৭.৫০ রান খরচ করে একটি করে উইকেট শিকার করেছেন, যেখানে জর্ডানের গড় ২১.৫০। ইকোনমির ক্ষেত্রেও রিশাদ বেশ মিতব্যয়ী; তার ইকোনমি ৭.৫০, আর জর্ডানের ক্ষেত্রে তা ৮.৬০।
টুর্নামেন্টের সেরাদের তালিকায় বাংলাদেশি স্পিনার বিগ ব্যাশের এই আসরে রিশাদ হোসেন এখন যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তার সমান ৬টি করে উইকেট নিয়েছেন আরও পাঁচজন বোলার। তালিকার শীর্ষে আছেন সিডনি সিক্সার্সের জ্যাক এডওয়ার্ডস (৮ উইকেট), এর পরেই ৭টি করে উইকেট নিয়ে আছেন পিটার সিডল ও টম কুরান। মূলত লেগ-স্পিনের বৈচিত্র্য আর উইকেটের বাউন্সকে কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন রিশাদ।
বিগ ব্যাশের মতো হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্টে একজন বাংলাদেশি লেগ-স্পিনারের এমন আধিপত্য নিশ্চিতভাবেই দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। হোবার্ট হারিকেন্সের আসন্ন ম্যাচগুলোতেও রিশাদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে থাকবে সমর্থকরা।