টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা নতুন কিছু নয়, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার জমজমাট ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ‘এসএ২০’ (SA20)-তে যা ঘটল, তা এককথায় অভাবনীয়। ডেভিড মিলারের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারের নেতৃত্বাধীন পার্ল রয়্যালস মেতে উঠল আত্মহননের খেলায়। সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জ তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪৯ রানেই অল-আউট (All-out) হয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরের কলঙ্কিত রেকর্ড গড়ল তারা।
বোল্যান্ড পার্কে ধ্বংসস্তূপ: ৪৯ রানেই ইতি
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) লিগের চতুর্থ আসরের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ ও পার্ল রয়্যালস। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স অধিনায়ক ট্রিস্টান স্টাবস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানের এক বিশাল স্কোর দাঁড় করায় গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা। ১৮৭ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে কোনো লড়াই-ই করতে পারেনি পার্ল রয়্যালস। ১১.৫ ওভারে মাত্র ৪৯ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
এর আগে এসএ২০ ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ডটি ছিল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের। ২০২৪ সালে এই সানরাইজার্সের বিপক্ষেই তারা ৫২ রানে অল-আউট হয়েছিল। এবার নিজেদের সেই রেকর্ড ভেঙে প্রতিপক্ষকে আরও নিচে নামিয়ে আনল সানরাইজার্সের বোলাররা।
হারম্যানের ব্যাটে শুরু, নরকিয়ার ঝড়ে শেষ
সানরাইজার্সের বিশাল পুঁজির ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ওপেনার জর্ডান হারম্যান। তার দুর্দান্ত ৬২ রানের ইনিংসে ভর করেই বড় সংগ্রহ পায় স্টাবসের দল। তবে আসল ‘ম্যাচ-উইনার’ (Match-winner) হয়ে আবির্ভূত হন প্রোটিয়া স্পিডস্টার আনরিখ নরকিয়া। মাত্র ৩ ওভার বোলিং করে ১৩ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার গতির কাছে রীতিমতো ‘ক্লুলেস’ মনে হয়েছে মিলার-বাটলারদের। নরকিয়ার এই আগুনে পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতে নেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অ্যাডাম মিল্নে (২/৭) ও থারিন্দু রাত্নায়েকে (২/৯)।
পার্ল রয়্যালসের ব্যাটিং লাইনআপে ধসের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, মাত্র দুইজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। সর্বোচ্চ ১৪ রান আসে আসা ট্রাইবের ব্যাট থেকে। দলের মহাতারকা ডেভিড মিলার বা জস বাটলাররা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
পরিসংখ্যানের আয়নায় বড় জয়
১৩৭ রানের এই বিশাল ব্যবধানের জয়টি এসএ২০ ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডটি ডারবান সুপার জায়ান্টসের দখলে, যারা ২০২৩ সালে ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ১৫১ রানে জিতেছিল। তবে সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ডটি এখন এককভাবে পার্ল রয়্যালসের কাঁধে।
অধিনায়ক মিলারের হতাশা
ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখেননি পার্ল রয়্যালস অধিনায়ক ডেভিড মিলার। প্রথম ম্যাচেই এমন বিপর্যয়ে বিমর্ষ এই বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, "আজকের রাতটি আমাদের জন্য চরম হতাশাজনক। তবে টুর্নামেন্ট কেবল শুরু হলো। সামনে অনেক ম্যাচ বাকি আছে। আমরা এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব এবং ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করব।"
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এমন বিপর্যয় পার্ল রয়্যালসের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে নামা সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ বুঝিয়ে দিল, কেন তারা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে বর্তমানের অপ্রতিরোধ্য শক্তি।