• রাজনীতি
  • তারেক রহমানের নির্দেশে ‘বিদ্রোহী’ জানে আলম খোকার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার: ৫ বছর পর বগুড়ার রাজনীতিতে নয়া মোড়

তারেক রহমানের নির্দেশে ‘বিদ্রোহী’ জানে আলম খোকার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার: ৫ বছর পর বগুড়ার রাজনীতিতে নয়া মোড়

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
তারেক রহমানের নির্দেশে ‘বিদ্রোহী’ জানে আলম খোকার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার: ৫ বছর পর বগুড়ার রাজনীতিতে নয়া মোড়

শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বহিষ্কৃত হন খোকা; আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐক্যের বার্তা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় কর্মীরা।

বগুড়ার জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জানে আলম খোকার দীর্ঘ পাঁচ বছরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিল দল। এই সিদ্ধান্তের ফলে বগুড়ার শেরপুর-ধুনট এলাকার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়, যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরে ‘ঐক্যের বার্তা’ (Unity Message) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ঘোষণা

গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে শেরপুর পৌর বিএনপির এক বিশেষ সাংগঠনিক সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি ও মহিলা অনার্স কলেজ চত্বরে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন শেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি স্বাধীন কুমার কুন্ডু।

সভাপতির বক্তব্যে স্বাধীন কুমার কুন্ডু জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা মুঠোফোনে তাকে জানে আলম খোকার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ‘হাই-লে-ভেল ডিসিশন’ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে স্লোগান দেন।

বিশেষ এই সাংগঠনিক সভায় শেরপুর পৌর বিএনপির কমিটির সব সদস্যসহ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জুয়েল, হাসানুল মারুফ শিমুল, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাট, আইয়ুব আলী মণ্ডল প্রমুখ।

‘বিদ্রোহের’ পটভূমি ও ৫ বছরের দূরত্ব

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জানে আলম খোকা স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি মুখ। তিনি ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসন (শেরপুর-ধুনট) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে, ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর কারণ ছিল—২০২১ সালের শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের (Party Decision) বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হন। দলীয় ‘ডিসিপ্লিন ভায়োলেশন’ (Discipline Violation) বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

শেরপুর শহর বিএনপির একাধিক সূত্র দাবি করে, বহিষ্কারের পরও জানে আলম খোকা বিভিন্ন সময় দলের আন্দোলন-কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে একাধিক ‘ফলস কেস’ ও ‘পলিটিক্যাল হ্যারাসমেন্ট’-এর শিকার হতে হয়েছে বলেও দলীয় নেতাদের দাবি।

ঐক্যের ডাক ও আগামী নির্বাচনের বার্তা

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর দলের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জানে আলম খোকা। তিনি বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করতে দলের সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ (Positive Step) হিসেবে দেখছেন।

Tags: national election tarique rahman bnp bangladesh news expulsion withdrawn jane alam khoka bogura politics sherpur election