বিকেলের আড্ডা কিংবা অফিসের কাজের ফাঁকে এক কাপ চায়ের সঙ্গে দুটো বিস্কুট না হলে যেন চলেই না। এমনকি ছোটখাটো ক্ষুধা মেটাতেও আমাদের প্রথম পছন্দ হরেক রকমের বিস্কুট। আপাতদৃষ্টিতে এই খাবারটিকে অত্যন্ত নিরাপদ ও নির্দোষ মনে হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। নিয়মিত এবং অতিরিক্ত বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরে এমন সব জটিল রোগ বাসা বাঁধতে সাহায্য করছে, যার ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ। জি নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে গবেষকরা বিস্কুটের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
ময়দা ও চিনির বিষ: ওজনের ওপর চড়া মাশুল
বাজারজাত বেশিরভাগ বিস্কুটই তৈরি হয় অতিরিক্ত রিফাইন করা ময়দা থেকে। এই ময়দায় পুষ্টিগুণ বলতেই কিছু নেই, উল্টো এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে 'Empty Calories'। নিয়মিত বিস্কুট খেলে শরীরে চিনি ও ফ্যাটের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ওবেসিটি বা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। বিস্কুটে থাকা উচ্চমাত্রার 'Sugar Content' সরাসরি ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের পথ প্রশস্ত করে।
স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের ওপর আঘাত
শুনে অবাক মনে হলেও এটিই সত্যি যে, মাত্রাতিরিক্ত বিস্কুট সেবন আপনার স্মরণশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকদের মতে, প্রতিদিন যারা গড়ে পাঁচটি বা তার বেশি বিস্কুট অথবা কেক জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Food) খান, তাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি উদ্বেগজনক, কারণ এটি তাদের কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যালার্জি ও পেটের নানাবিধ সমস্যা
অনেকেই জানেন না যে তাদের শরীরে 'Gluten Allergy' রয়েছে। বিস্কুটের প্রধান উপকরণ যেহেতু ময়দা, তাই গ্লুটেন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য এটি বিষের মতো কাজ করে। এছাড়া অতিরিক্ত ময়দা এবং ফাইবারহীন খাবার খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রকট হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পরবর্তীতে অর্শ বা পাইলসের মতো যন্ত্রণাদায়ক রোগ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় বিস্কুটে ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ ও প্রিজারভেটিভ থেকেও ত্বকে র্যাশ বা অ্যালার্জি হতে পারে।
হার্টের স্বাস্থ্যের অবনতি
বিস্কুট মুচমুচে রাখতে এতে প্রচুর পরিমাণে 'Trans Fat' বা ডালডা জাতীয় ফ্যাট ব্যবহার করা হয়। এই ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বিস্কুটে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়ামও মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিকল্প কী? ডাইজেস্টিভ বিস্কুট কি সমাধান?
বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস একবারে ত্যাগ করা কঠিন হলেও বিকল্প ভাবার সময় এসেছে। সাধারণ বিস্কুটের চেয়ে 'Digestive Biscuits' বা হোল গ্রেইন বিস্কুট কিছুটা ভালো। এতে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে 'Fiber' থাকে যা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং শরীরে দ্রুত এনার্জি যোগায়। তবে ডাইজেস্টিভ বিস্কুট হলেও তা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। বিস্কুটের বদলে হালকা ক্ষুধা মেটাতে বাদাম, ফল বা খই খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
সুস্থ থাকতে এবং অকাল বার্ধক্য বা রোগ এড়াতে প্রক্রিয়াজাত বিস্কুটের প্যাকেট খোলার আগে দুবার ভাবুন। আপনার সামান্য সচেতনতাই পারে বড় কোনো শারীরিক বিপর্যয় থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।