ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের জোট প্রার্থী জোনায়েদ সাকির দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার ও তার স্ত্রীর সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র উঠে এসেছে।
জোনায়েদ সাকির বার্ষিক আয় ও সম্পদ
পেশায় প্রকাশক জোনায়েদ সাকির সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন (২০২৫-২৬ অর্থবছর) অনুযায়ী, তার বার্ষিক মোট আয় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৬ টাকা। এর মধ্যে পেশাগত খাত থেকে আয় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮১ টাকা এবং শেয়ার, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ২ হাজার ৯৭৫ টাকা। কৃষি, চাকরি কিংবা বাড়িভাড়া থেকে তার কোনো আয় নেই।
হলফনামা অনুযায়ী, জোনায়েদ সাকির ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০২ টাকা। তবে তার স্থাবর সম্পদের তালিকায় নিজের নামে কোনো আবাসিক বাড়ি বা ফ্ল্যাটের উল্লেখ নেই। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১১ একর অকৃষি জমি এবং একটি হাউজিং প্রকল্পে অগ্রিম জমা দেওয়া ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ছাড়িয়েছে
অন্যদিকে, জোনায়েদ সাকির স্ত্রীর বার্ষিক আয় ২৩ লাখ ৯ হাজার ২১১ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৪ টাকা, যা প্রার্থীর সম্পদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৮.১৮ শতাংশ কৃষি জমি, ৩ হাজার ২৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং ১৬৭ বর্গফুট আয়তনের একটি দোকান। এই স্থাবর সম্পদের ঘোষিত মূল্য ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৪ টাকা।
মামলা ও ঋণ সংক্রান্ত তথ্য
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা চলমান নেই। একইসঙ্গে তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় প্রকাশিত এই ধরনের স্বচ্ছ তথ্য ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রার্থীর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদের আধিক্য ও প্রার্থীর নিজের নামে বাড়ি না থাকার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।