প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশ মেক্সিকোতে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী এক ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ৬.৫ মাত্রার এই কম্পন যখন অনুভূত হয়, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ব্যস্ত ছিলেন। সরাসরি সম্প্রচারিত ওই Press Briefing-এর মাঝেই ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা বা Seismic Alarm বেজে উঠলে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূকম্পন: মুহূর্তেই স্থবিরতা
প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত ওই ব্রিফিং চলাকালে কম্পন শুরু হলে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট শিনবাউম, উপস্থিত সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা দ্রুত হলকক্ষ ত্যাগ করেন। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে প্রেসিডেন্ট পুনরায় ফিরে আসেন এবং ব্রিফিং চালিয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ভেতর ঝুলন্ত আলো ও ক্যামেরাগুলো প্রবলভাবে দুলছে এবং মানুষ দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে।
উৎপত্তিস্থল ও ভৌগোলিক তথ্য
মেক্সিকোর জাতীয় ভূকম্পতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল বা Epicenter ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোস শহরের কাছে, যা পর্যটন নগরী আকাপুলকোর অত্যন্ত নিকটবর্তী। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ২১.৭ মাইল (৩৫ কিলোমিটার)। মূল কম্পনের পর ওই অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৫০০-র বেশি আফটারশক (Aftershock) রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুয়েরেরোর গভর্নর এভলিন সালগাদো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে একটি ভবন ধসে ৫০ বছর বয়সী এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা জানিয়েছেন, রাজধানী শহরে একটি ভবন খালি করে নামার সময় পড়ে গিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজ্যের রাজধানী চিলপানসিঙ্গোর একটি হাসপাতালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ফাটল ও আংশিক ধসের কারণে তড়িঘড়ি করে রোগীদের সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আকাপুলকো ও পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে বড় ধরনের ভূমিধস (Landslide) হওয়ায় যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জনজীবনে প্রভাব ও উদ্ধার তৎপরতা
কম্পন শুরু হওয়ার সাথে সাথে মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। আতঙ্কে অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও Disaster Management টিম দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। মেক্সিকো ভূ-তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়, তবে জনবহুল এলাকায় ৬.৫ মাত্রার এই কম্পন বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।