ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে উত্তরের জনপদ বগুড়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে সুচারুভাবে যাচাই-বাছাই শেষে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি আসে, যা বগুড়ার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যাচাই-বাছাইয়ের চিত্র ও নতুন সমীকরণ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে বগুড়া-৬ আসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তারেক রহমানের সকল তথ্য বিশ্লেষণ করে তার প্রার্থিতার বৈধতা নিশ্চিত করেন। একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষিত হয়েছে, যা এই Constituency-তে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে নথিপত্র ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় হোঁচট খেয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরী। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, যথাযথভাবে Income Tax Return জমা না দেয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে।
বগুড়া-৬: বিএনপির এক সময়ের অপ্রতিরোধ্য দুর্গ
বগুড়া-৬ আসনটি দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘জিয়া পরিবার’-এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি বিএনপির কবজায় ছিল। এর মধ্যে চারবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
২০১৪ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হলেও, ২০১৮ সালে আবারও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আসনে বিজয়ী হন। তবে তিনি শপথ গ্রহণ না করায় উপনির্বাচনে বিএনপির গোলাম মো. সিরাজ বিজয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের ধারায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান এখানে জয়ী হন। এবার তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের এই ‘হারানো দুর্গ’ পুনরুদ্ধারের পথে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল।
ভোটের ময়দান ও পরিসংখ্যান
বগুড়া পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৯ হাজার। একটি বড় শহরের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এই আসনের জয়-পরাজয় জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার ফলে এই আসনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
ভোটের রোডম্যাপ: পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে ৬ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা (Election Campaign), যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। সবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বগুড়া-৬ আসনের আগামী দিনের প্রতিনিধি।