হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে এক ঝটিকা অভিযানে তাকে আটক করা হয়। এর ঠিক একদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (Social Media) একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মাহদী হাসানকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (OC) সঙ্গে অত্যন্ত দৃঢ় ও উত্তপ্ত ভাষায় কথা বলতে দেখা গিয়েছিল।
পুলিশি অভিযান ও প্রেক্ষাপট: ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গভীর রাতে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা এলাকায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-টু’ (Operation Devil Hunt Phase-Two) নামক একটি বিশেষ অভিযানে এনামুল হাসান নয়ন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি ছিল, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় ছাত্র-জনতার মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
থানা ঘেরাও ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। এনামুল হাসান নয়নকে নির্দোষ এবং ‘জুলাই বিপ্লবের’ সম্মুখ সারির যোদ্ধা দাবি করে শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মাহদী হাসান। ওই সময় থানার ভেতরে ওসির কক্ষে মাহদী হাসানের সঙ্গে পুলিশের উচ্চবাচ্য হয়।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, মাহদী হাসান পুলিশের উদ্দেশ্যে বলছেন যে, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একজন আন্দোলনকারীকে তুলে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি অবিলম্বে নয়নের মুক্তি দাবি করেন। কয়েক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা ও ছাত্র-জনতার ক্রমাগত বিক্ষোভের মুখে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে অভিভাবকের জিম্মায় নয়নকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তার ও বর্তমান পরিস্থিতি
নয়ন মুক্তি পেলেও বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শনিবার মাহদী হাসান নিজেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন। গোয়েন্দা পুলিশের এই পদক্ষেপে জেলায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এই গ্রেপ্তারকে ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে দাবি করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মাহদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। তবে ওসির সঙ্গে তর্কের জেরেই এই গ্রেপ্তার কি না, তা নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলছে তুমুল বিতর্ক। হবিগঞ্জে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।