ভারতের টেলিভিশন ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আইকনিক রিয়েলিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (KBC)। এই শো-এর নাম উচ্চারণ করলেই যে মুখটি অবলীলায় ভেসে ওঠে, তিনি আর কেউ নন—বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই শো-এর সঞ্চালকের আসনে বসে তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে সম্প্রচারিত হলো কেবিসি সিজন ১৭-এর গ্র্যান্ড ফিনালে (Grand Finale)। আর সেই বিদায়বেলাতেই নিজেকে সামলাতে পারলেন না খোদ বিগ বি।
আবেগঘন বিদায় ও মেগাস্টারের অশ্রু
কেবিসি ১৭-এর শেষ পর্বে এসে স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন ৮৩ বছর বয়সি এই কিংবদন্তি অভিনেতা। অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে যখন বিদায় নেওয়ার সময় এল, তখন তাঁর কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আসে এবং চোখে জল টলমল করতে দেখা যায়। অমিতাভ জানান, এই শো কেবল একটি গেম শো নয়, বরং তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে আমি আমার জীবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় কাটিয়েছি। এটি আমার জন্য শুধু সম্মানের নয়, অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। এই দীর্ঘ পথচলায় আপনারা যেভাবে আমাকে এবং এই শো-কে ভালোবেসেছেন, তার ঋণ শোধ করার ভাষা আমার জানা নেই।”
দর্শকই শো-এর প্রাণ
এবারের সিজনেও বহু প্রতিভাবান প্রতিযোগী হট সিটে (Hot Seat) বসেছেন, জিতেছেন কোটি টাকা। তবে অমিতাভের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো দর্শকদের ভালোবাসা। গ্র্যান্ড ফিনালেতে তিনি বারবার দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আবেগী স্বরে বলেন, “আপনারা থাকলে এই শো থাকবে, আর এই শো থাকলে আমি থাকব। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে আপনারাই ছিলেন আমার শক্তি।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগের জোয়ার
কেবিসি ১৭-এর এই শেষ পর্বটি টিভিতে প্রচার হওয়ার পরপরই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ভাইরাল হয়ে যায়। এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ফেসবুকে অনুগামীরা অমিতাভ বচ্চনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা উগরে দিচ্ছেন। ভক্তদের মতে, অমিতাভ বচ্চন ছাড়া কেবিসি কল্পনা করা অসম্ভব। অনেকে লিখেছেন, সিজন শেষ হলেও অমিতাভের কণ্ঠস্বর এবং তাঁর ‘লক কর দিয়া যায়ে’ ডায়ালগটি তাঁদের কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হবে।
একটি যুগের অবসান নাকি বিরতি?
২০০০ সালে শুরু হওয়া এই শো-এর যাত্রা আজও অম্লান। মাঝখানে একটি সিজন বাদে প্রতিবারই অমিতাভ বচ্চন সাফল্যের সঙ্গে এই শো পরিচালনা করেছেন। বয়সকে তুড়ি মেরে তাঁর ক্লান্তিহীন সঞ্চালনা এবং রসবোধ দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে। সিজন ১৭-এর এই রাজকীয় সমাপ্তি দর্শকদের মনে একরাশ বিষণ্ণতা রেখে গেলেও, সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সিজন ১৮-এর জন্য।
পর্দায় হয়তো ‘শুভরাত্রি’ বলে বিদায় নিয়েছেন বিগ বি, কিন্তু তাঁর সেই অশ্রুসিক্ত নয়ন এবং দর্শকদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ আরও একবার প্রমাণ করল—কেন তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘শাহেনশাহ’।