রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নিরাপত্তা এবং নজরদারি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন এলাকা থেকে প্রথমে একজনকে এবং তার কিছুক্ষণ পর আরেকজনকে আটক করা হয়। গুলশান থানা পুলিশ এই আটকের ঘটনা নিশ্চিত করেছে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বিকেলে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি ভিআইপি (VIP) বাসভবনের নিরাপত্তা বলয়ের সন্নিকটে এ ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রথম আটক: বাড়ির বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলের ছবি তোলার চেষ্টা
ওসি রাকিবুল হাসান জানান, সকাল ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ মো. রুহুল আমিন (৪৬) নামের এক ব্যক্তি তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাখা গাড়ির বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তুলছিলেন। তার গতিবিধি নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হয়।
সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আটক রুহুল আমিন অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রদান করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আটক রুহুল আমিনের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায়। ঠিক কী কারণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বাসভবনের ছবি তুলছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করেছে। তার ডিজিটাল ডিভাইস (Digital Device) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় আটক: গাঁজাসহ গ্রেফতার
রুহুল আমিনকে আটকের কিছুক্ষণ পরই বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে একই বাসভবনের সামনে থেকে মো. ওমর ফারুক নামের অন্য এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক করার পর তার দেহ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মাদকের উপস্থিতি পাওয়ায় তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক দ্বিতীয় ব্যক্তি মো. ওমর ফারুকের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ তার পরিচয় এবং এই এলাকায় তার উপস্থিতির উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে।
নিরাপত্তা বলয়ে নজরদারি বৃদ্ধি
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনের সামনে পরপর দুই জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় গুলশান এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রুহুল আমিন এবং ওমর ফারুকের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা তদারকির অধীনে রয়েছে।
Search Tags: